চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন

নতুন শিক্ষাক্রমে চূড়ান্ত অনুমোদন, আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ১, ২০২২ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

> ২০২৪ সালে থেকে জেএসসি-জেডিসি ও প্রাথমিক সমাপনী থাকছে না
> মাধ্যমিকে থাকবে না কোনো বিভাগ
> একাদশ-দ্বাদশে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জাতীয় শিক্ষাক্রমে আসছে আমূল পরিবর্তন। আর এটার বাস্তবায়নও শুরু হবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) যৌথ সভায় নতুন এই কারিকুলাম বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভায় উপস্থিত ছিলেন। গত সোমবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নতুন শিক্ষাক্রমে সবকিছুকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে পরীক্ষা ধরন, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কার্যকাল, মূল্যায়ন পদ্ধতি সব কিছুতেই আনা হয়েছে নতুনত্ব। পরীক্ষার চাপ কমিয়ে -শিখন পদ্ধতিতেই বেশি জোর দেয়া হয়েছে। আরো জানায়, নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাই থাকছে না। এসব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়েই মূল্যায়ন করা হবে। নতুন এই শিক্ষাক্রমে উঠে যাচ্ছে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি- জেডিসি পরীক্ষাও। শুধু দশম শ্রেণি শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে প্রচলিত এইচএসসি পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণি শেষে একটি ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে আরো একটি, এই মোট দুই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুসারে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। নতুন কারিকুলাম অনুসারে প্রাথমিকে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। এদের কোনো পরীক্ষা থাকবে না। যেহেতু আগামী বছর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় এ দুই শ্রেণিতে পরীক্ষা হবে না। আর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলামে পড়ালেখা শুরু করলে সে বছর থেকে তাদের পরীক্ষাও থাকছে না।

২০২৪ সালে থেকে জেএসসি জেডিসি ও প্রাথমিক সমাপনী ও থাকছে না :
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও ৯ম শ্রেণি নতুন এই শিক্ষাক্রমের আওতায় আসবে। এ শিক্ষাক্রমের আওতায় ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে স্কুল পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হবে। অবশ্য এর আগেও শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, নতুন কারিকুলামে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণি শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সে অনুসারে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হলে সে বছর থেকেই জেএসসি পরীক্ষা থাকছে না। আর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হলে সে বছর থেকে আর হবে না প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা।

মাধ্যমিকে থাকবে না কোনো বিভাগ :
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ফলে মাধ্যমিক পর্যন্ত থাকছে না কোনো বিভাগ। অর্থাৎ সায়েন্স, আর্টস, কমার্স বিভাজন উঠে যাচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সবাইকে পড়তে হবে ১০টি বিষয়। দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপরই অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দ করতে হবে। একাদশ শ্রেণি শেষে পরীক্ষা এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে পরীক্ষা নেয়া হবে। এই দুই পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে তৈরি হবে এইচএসসির ফল।

একাদশ-দ্বাদশে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা:
এ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে স্কুল পর্যায়ের কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৬ ও ২০২৭ খ্রিস্টাব্দে। এর আগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, নতুন কারিকুলামে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের গ্রেডিং হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির আলাদা পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে একাদশ শ্রেণি ও দ্বাদশ শ্রেণির পর শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষারগুলোর ফল। বিবেচনা করে দ্বাদশ শ্রেণির পর শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি :
নতুন কারিকুলামের রূপরেখা অনুসারে প্রাথমিকে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। কোনো পরীক্ষা থাকবে না। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে গিয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। আর ৪০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে ক্লাস শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে যেটি সামধিক মূল্যায়ন বলা হচ্ছে। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে ৩০ শতাংশ এবং ৪০ শতাংশ হবে সামষ্টিক মূল্যায়ন। নবম ও দশম শ্রেণিতে কয়েকটি বিষয়ে শিখনকালে অর্ধেক মূল্যায়ন হবে এবং। বাকি অর্ধেক সামষ্টিক মল্যায়ন হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ ভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন এবং ৭০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, নতুন কারিকুলামের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে । তিনি আরো বলেন, নতুন কারিকুলামের ভাষাগত কয়েকটি বিষয় ছাড়া তেমন কোনো পরিবর্তন আনা সূত্র জানায় গত সোমবারের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আমিনুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।