শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

32

সব দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে
প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শহরাঞ্চলের কিছু শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেলেও গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ছে। গত বছরের শেষ দিকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা খোলা হয়নি। বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু টিকাদান কর্মসূচির যে গতি দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী এক বছরেও সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া যাবে কি না, তা অনিশ্চিত। তার অর্থ আরো এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, আরো অন্তত এক বছর তা হতেই থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দীর্ঘ ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাকালে অভিভাবকদের আয়-উপার্জন কমে যাওয়ায় অনেককে কাজে লেগে যেতে হয়েছে। অনেক কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য এখন পর্যন্ত সেভাবে টিকাও নেই। তাহলে তাদের স্কুল খুলে দেওয়ার কী হবে? বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন ইউনিসেফ ও ইউনেসকো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ইউনিসেফ ও ইউনেসকো এক যৌথ বিবৃতিতে টিকার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত স্কুল খুলে দিতে বলেছে। সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপযুক্ত কৌশল অবলম্বন করে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সামাল দিয়ে স্কুল খুলে দেওয়া সম্ভব।
পদশে করোনা সংক্রমণ হয় গত বছরের মার্চ মাসে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত সব কিছুই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিছুদিন পর শর্ত সাপেক্ষে কলকারখানা, অফিস, মার্কেটসহ প্রায় সব কিছুই খুলে দেওয়া হয়; কিন্তু খোলা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা কি ঘরে বসে থাকছে? হাট-বাজার, খেলার মাঠসহ সর্বত্রই শিক্ষার্থীদের চলাচল রয়েছে। বরং স্কুল বন্ধ থাকায় আড্ডা, ঘোরাঘুরি বেশি হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকছে। শিক্ষাঙ্গনে যেতে না পারায় তাদের যে কী অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, সেটিই বিবেচনায় নিতে বলেছে জাতিসংঘের অধীন এই দুটি সংস্থা। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসছে, দেশে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন কিভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কতভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু ঝরে পড়া নয়, অনেক শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দেশে প্রাথমিকে ভর্তির হার প্রায় শতভাগে উন্নীত হয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণ প্রায় সমান হয়েছিল। ঝরে পড়ার হারও অনেক কমেছিল। এখন সব হিসাবই উল্টে যেতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ঝরে পড়া রোধে দ্রুত কিছু করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তা শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, জাতির জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।