শিক্ষকদের অর্ন্তদ্বন্দ্বে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষালাভ

409

জীবননগর পূর্বচাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা
জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব চাকলা গ্রামে ১৯৬৯ সালে পূর্ব চাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সেই থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে পরিচালিত হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টির বর্তমান এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে অভিভাবক মহল। সম্প্রতি গত কয়েকদিন আগে পূর্ব চাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহানের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের নিকট থেকে উপবৃত্তির টাকা দেয়ার জন্য ১’শ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে অভিভাবক মহল। তার পরেই ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামের নামে মাদক সেবন করে শিক্ষার্থীদের মারধরসহ শিক্ষকদের সাথে অসদাচারনের অভিযোগ তুলে তদন্তের জন্য আবেদন করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ও একটি পক্ষ। দুই অভিযোগরে পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তিন সদস্যর একটি টিম তদন্তে আসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুলে তদন্তের টিম আসার পূর্ব মুহুর্ত স্কুলে পুলিশ পাহারা বসানো হয়। পুলিশ পাহারার মধ্যই দুই পক্ষের সমর্থকরা উত্তেজিত হতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রনে আনে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি বিদ্যালয়টিতে আগে বেশ ভালোই লেখাপড়া হচ্ছিল কিন্তু গ্রামে দুইটি গ্রুপিং হওয়ায় দুই গ্রুপের সদস্যরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে আসতে চাইছে। তাছাড়া বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরজাহান ও তার স্বামী বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক মেম্বার নজরুল বিদ্যালয়টিতে রাজত্ব করতে চায়। তাদের বিপক্ষে কোন অভিভাবক বা শিক্ষক গেলেই তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হত। এর আগেও নুরজাহান এই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে মানুষিকভাবে অত্যাচার করে তাড়িয়েছে।
অভিভাবক ওবাইদুল হক জানান, প্রধান শিক্ষক নুরজাহান অভিভাবকদের কাছে উপবৃত্তি দেয়ার জন্য চাঁদা নিয়েছে এটি সঠিক। এটি যখন অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দিল তখন নুরজাহান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিলে বিষয়টি অন্যদিকে নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে মাদকসেবী বানিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তের জন্য আবেদন করেন। শিক্ষাথীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আপা আমাদের বলেছে কেউ শফিকুল স্যারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তোমরা সকলে বলবে স্যার নেশা করে ক্লাসের ভিতরে আমাদের মারধর করে। নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। তার মনমত না চললে তার স্বামীসহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। এর আগেও প্রধান শিক্ষকের কারনে এই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে স্কুল ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।
পূর্ব চাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরজাহান জানান, আমার বিরুদ্ধে যারা উপবৃত্তি টাকা নিয়ে অভিযোগ করেছে এটি সঠিক না। আমি কোন অভিভাবকের নিকট চাঁদা চায়নি। আমি শুধু স্কুলে ফ্যান লাগানোর জন্য গ্রামের সকল সুধী মহলকে বলেছি যে যার যেমন সামর্থ্য আছে সেভাবে টাকা দিতে। শফিকুল স্যারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শফিকুল একজন মাদকসেবী এটি স্কুলের সবাই জানে। সে প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। এমনকি স্কুলের শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথেও খারাপ আচরন করেন।
পূর্ব চাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মহিদুল মাস্টার জানান, একটি মহল বিদ্যালয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা উপবৃত্তি টাকাকে ইস্যু করে একটি মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। এছাড়াও মাতাল শিক্ষককে বাঁচানোর জন্য তারা চেষ্টা করছে। পূর্ব চাকলা গ্রামের মেম্বার মানিক জানান, পূর্ব চাকলা প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মিলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিকট থেকে উপবৃত্তি দেয়ার জন্য টাকা চাঁদা দাবি করেছে এটি গ্রামের অনেকে আমাকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে বলেও আমি শুনেছি। তিনি আরো বলেন, এই স্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিকুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে এটা কতটুকু সত্য এটা আমি জানিনা। তবে গ্রামবাসীর দাবি স্কুলে যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন হয়েছে এটি অভিভাবকদের কাউকে না জানিয়ে হয়েছে। এ কারনে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পূর্ব চাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এটি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি করায় সুধী মহল হতাশ।