শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ, যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করছে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সরকারের উন্নয়ন প্রচার-প্রচারণা, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান, উঠান বৈঠক, পথসভা এবং দিবসভিত্তিক কর্মসূচি। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জেলা নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ওইদিন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকায় সিলেট বিভাগের সমাবেশে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইউনিয়ন সমাবেশে যোগদান করবেন না। বাকি সাত বিভাগের প্রতিটি জেলাতেই একটি করে ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এক যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারা ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে সমাবেশে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা একেবারে তৃণমূলে ভোটের বার্তা দিতে চাই। বিশেষ করে গত ১৪ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কী কী করেছে, আর ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত কেমন ছিল সেগুলো তুলে ধরব। আগামীতে আওয়ামী লীগকে কেন প্রয়োজন সেটা জনগণকে বোঝাব। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য জনগণকে সচেতন করব।’ দলীয় সূত্র জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলতি বছরকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে তৃণমূলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সংযোগ স্থাপন। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা এখন থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে যাবেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। কিছু নেতা ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করলেও সে সব নেতারা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু এবার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও ইউনিয়ন পর্যায়ে যাবেন। জানা গেছে, ১১ ফেব্রুয়ারির ইউনিয়ন পর্যায়ের শান্তি সমাবেশে কোনো কোনো নেতা যাবেন তার একটি তালিকা গতকাল সকালে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এই তালিকা করেন। এ সময় দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘১১ তারিখে ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলায় জেলায়। দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া আমরা বছরব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করব। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সরকারের উন্নয়ন প্রচার-প্রচারণা, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান, উঠান বৈঠক, পথসভা এবং দিবসভিত্তিক কর্মসূচি। নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’ দলের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধীরা রাজনৈতিক দলগুলো যেন আন্দোলন সংগ্রামের নামে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর অবস্থানে থাকবে ক্ষমতাসীন দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। এর প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ বছরে বেশকিছু সাংগঠনিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কী কী করেছেন তা ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো রাজনৈতিক দল যেন সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের নামে দেশের অভ্যন্তরে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে।