চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৬ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শান্তিপূর্ণ ইরানকে অস্থিতিশীল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৬, ২০১৮ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিআইএর পরিকল্পনা, ইসরাইলের সহায়তা ও সৌদির অর্থায়নে
সমীকরণ ডেস্ক: হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠল ইরান। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ বিক্ষোভ হয়ে ওঠল সহিংস। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গলদঘর্ম রুহানি প্রশাসন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এত বড় ও সহিংস বিক্ষোভ ইরানবাসী আর দেখেননি। শুক্রবার পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ২২ জন বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাওয়া সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান এরা। কিন্তু নিকট অতীতে রাজনৈতিকভাবে মোটামুটি শান্ত থাকা তেহরানের রাজপথ আকস্মিকভাবে এমন অস্থির হয়ে ওঠর কেন? এর পেছনের কারণ কী? দেশটির প্রধান আইন কর্মকর্তার দাবি, এর পেছনে হাত রয়েছে বাইরের শক্তির। আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর মোন্তাজারি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত চার বছর ধরে ইরানে সরকার উৎখাতের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিল। সিআইএর কাছে প্রকল্পটির নাম Consequential Convergence Doctrine. এটি বাস্তবায়নে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি দল। আর পুরো প্রক্রিয়ার অর্থায়নে আছে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব। বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশব্যাপী অস্থিরতা তৈরি করে জোরপূর্বক সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা ছিল দেশ তিনটির- এমনটাই দাবি মোন্তাজারির। তিনি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনাতেই এই নৈরাজ্য তৈরি করা হয়। যাতে সহায়ক ছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। আর অর্থায়নে ছিল সৌদি আরব। যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে লিবিয়া-তিউনিসিয়ার মতো ধ্বংস করে ফেলা। তেহরানের এমন দাবির আগেই অবশ্য বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা জানিয়ে তিন দিন আগে টুইট করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ইরানের অস্থির পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সরকারের ‘সন্তুষ্টি’র খবর। এদিকে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেয়ায় বিশ্বনেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। সহিংস পরিস্থিতির জন্য ওয়াশিংনটনকেও দায়ী করা হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, পরমাণু অস্ত্র, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। কারণ আমরা মনে করি শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বিশ্ব শান্তির জন্য বড় ফ্যাক্টর ইরান। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের এমন মন্তব্য বা পদেক্ষেপ নেয়া উচিত নয়, যা এই স্থিতিশীলতাকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।