শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

307

৩০ মে ১৯৮১ সাল- বাংলাদেশের সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন। বেদনার দিন। ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন- শাহাদাত বরণ করেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃ প্রবর্তক, সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। প্রেসিডেন্ট জিয়া চট্টগ্রাম সফরে ছিলেন। বারো আওলিয়ার মুল্লুক, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক চৌকস মেজর স্বদেশ প্রেম ও স্বাদেশীকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ বলে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছিলেন সেই বন্দর নগরী চট্টগ্রামেই মাত্র এক দশকের মাথায় ঘাতকদের হাতে শহীদ হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আকস্মিক ও অকাল শাহাদাতে দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকের মাতম উঠে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায়। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিশাল নামাজে জানাজা। সেটি ছিল স্মরণকালের বৃহত্তম নামাজে জানাজা। চন্দ্রিমা উদ্যানে চির শয়ানে শায়িত আছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। মহান মালিক তাকে বেহেশ্ত নসিব করুন। চট্টগ্রামস্থ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া কর্তৃক মহান স্বাধীনার ঘোষণায় তার কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, একজন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসাবে দেশ ও জাতির সেই ক্রান্তিকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, বাংলা ও বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ডাক দেন। মেজর জিয়া নিজের কোন পদ-পদবি ঘোষণা করেননি, কিংবা দাবিও করেননি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং একটি সেক্টারের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বাধীনতা উত্তরকালে সৈনিক জিয়া ব্যারাকে ফিরে যান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান নিযুক্ত হন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হয়েছিলেন জেনারেল কে.এম. শফি উল্লাহ, বি.ইউ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক ফোরাম গঠনের স্বপ্ন দ্রষ্টাও ছিলেন তিনি। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ এমন পরিচ্ছন্ন পররাষ্ট্রনীতি তার শাসনামলে দৃশ্যমান ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশ যখন উন্নয়ন অগ্রগতি ও প্রগতির পথে তখন বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এক সফরে যান প্রেসিডেন্ট জিয়া। ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘাতকদের হাতে শহীদ হন তিনি। যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপন করেছিলেন বাংলাদেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ এখন শহীদ জিয়া জাদুঘর। এখানে গেলেই দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সহজ সরল সাধারণ জীবনদর্শন-জীবনাচরণ। তার হাফহাতা সাফারি, ভাঙ্গা স্যুাটকেস, জায়নামাজ প্রমাণ করে কত সাধারণ জীবনযাপন করতেন তিনি। ৩০ মে, রাত্রের নৈশভোজের খাদ্য তালিকাও টাঙ্গানো আছে দেয়ালে- সাদা ভাত মুরগির ঝোল, ডাল, সবজি ছিল দুনিয়াতে তার শেষ খাবার। কোরমা, পোলাও, চিকেন, মাটন, রেজালা, ডেজার্ট দিয়ে ভূরিভোজ নয়, সামান্য ডালভাত ছিল তাঁর প্রিয় খাবার। ব্যক্তি ও প্রেসিডেন্ট হিসাবেও তিনি ছিলেন শতভাগ সৎ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের ঘোর বিরোধী ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর কট্টর সমালোচকও তাঁর দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির কোন অভিযোগ উত্থাপন করেননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর তাঁর নামাজে জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। এই যুগেও শহীদ জিয়া আছেন দেশবাসীর হৃদয়ে। মনের মনি কোঠায়, অন্তরে-অনুভবে। আছে তাঁর প্রিয় দল, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ, জাতীয়তাবাদী শক্তি। আশা করা যায়, দেশবাসী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াাকে স্মরণ করবে বিন¤্র শ্রদ্ধায়। ভালোবাসায়। শহীদ জিয়ার এই শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর উজ্জ্বল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।