শরিয়তের মানদণ্ড কিয়াস

458

ধর্ম ডেস্ক: শরিয়তের দলিল হিসেবে ইজমার পর কিয়াসের স্থান। কিয়াস শরিয়তের চতুর্থ মানদণ্ড। কিয়াস শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিমাণ, তুলনা ও অনুমান করা। শরিয়তের পরিভাষায় কোরান হাদিসের পূর্ব সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে পূর্বের আইন প্রয়োগ করাকে কিয়াস বলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, অতএব হে জ্ঞানীরা, তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর (সূরা হাশর: ২)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কোনো বস্তুকে সমপর্যায়ের বস্তুর সঙ্গে কিয়াস বা পরিমাপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে উপরস্থ আদেশদাতাদেরও (মুজতাহিদ) আনুগত্য কর। অনন্তর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে দ্বিমত কর তবে তা (মীমাংসার জন্য) আল্লাহ ও রাসুলের দিকে অর্পণ কর (সূরা নিসা: ৫৯)। এখানে ‘আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও উপরস্থ আদেশদাতার আনুগত্য করা’ দ্বারা যথাক্রমে কোরআন, হাদিস, ইজমা অনুযায়ী চলা এবং ‘আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর দিকে অর্পণ করা’ দ্বারা কিয়াস অনুযায়ী চলাই উদ্দেশ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম কোরান, হাদিস,  ইজমা ও কিয়াসের আলোকে উদ্ভূত নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতেন। এরপর চার মাযহাবের ইমামগণ কিয়াস প্রয়োগ করে অগণিত সমস্যার সমাধান করেন। যে বিষয়ের সমাধান কোরান, হাদিস ও ইজমা’র যে কোনো একটির দ্বারা করা সম্ভব, এর সমাধান কিয়াস দ্বারা করা বৈধ নয়। এই তিনটি দ্বারা সম্ভব না হলে কিয়াস দ্বারা সমাধান করা বৈধ (তাফসিরে কাবির)। যেমন একবার মুয়াজ (রা.)-এর উদ্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, মুয়াজ, তোমার কাছে বিচারের জন্য যখন কোনো বিষয় উপস্থিত হয়, তখন কিভাবে সমাধান করবে? মুয়াজ (রা.) বললেন, আল্লাহর কোরান অনুযায়ী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যদি কোরানে এর সমাধান না পাও মুয়াজ (রা.) বললেন, আল্লাহর রাসুলের সুন্নত অনুযায়ী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যদি আল্লাহর রাসুলের সুন্নতে না পাও মুয়াজ (রা.) বললেন, তবে আমি আমার বিবেকের সাহায্যে সমাধানের চেষ্টা করব। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) মুয়াজ (রা.)-এর বুকে হাত রেখে বললেন, ওই আল্লাহর প্রশংসা যিনি আল্লাহর রাসুল (সা.) যে বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকেন তাই তাকে দান করেছেন (মিশকাত)। তাই কিয়াসেরও বিরোধিতা কিংবা অস্বীকার করা যাবে না। কোরান, হাদিস, ইজমার মতো কিয়াসকেও শরিয়তের অকাট্য প্রমাণ মানতে হবে।