চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৪ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শতাধিক লোকের সাথে প্রতরণা; পাচার অর্ধশত, ৭ সহযোগীসহ আটক টুটুল

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৪, ২০২১ ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মেহেরপুরে মুদি দোকানি থেকে মালিক ভুয়া তিন এজেন্সির, টার্গেট মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণী
সমীকরণ প্রতিবেদন:
মেহেরপুরের সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল। গ্রামেই ছিল তার মুদিদোকান। একপর্যায়ে বিদেশে লোক পাঠানো দালালদের সাথে গড়ে ওঠে সখ্য। সেই সখ্যর সূত্র ধরেই দালালদের মাধ্যমে নিজ গ্রামের কয়েকজন লোককে বিদেশে পাঠায় টুটুল। এরপর টাকার লোভে নিজেই জড়িয়ে পড়ে মানবপাচারকারী চক্রে। হয়ে ওঠে মানবপাচারের মূলহোতা। রাজধানীর বাড্ডায় খুলে বসে, তিনটি অবৈধ ওভারসিজ এজেন্সি। নিজের এজেন্টদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীদের উচ্চ বেতনের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, সাত সহযোগীসহ ধরা পড়েছে র‌্যাবের হাতে। র‌্যাব জানায়, টুটুল চক্র এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে মোটা অঙ্কের টাকা বেতনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। এর মধ্যে ৩০ জন নারী রয়েছে বলে তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ ছাড়াও বিদেশ পাঠানোর নাম করে শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বাড্ডায় টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে তিনটি ভুয়া ওভারসিজ এজেন্সিতে অভিযান চালিয়ে টুটুলদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্যরা হলো টুটুলের প্রধান সহযোগী এক সময়ের চা দোকানি তৈয়ব আলী, শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন, মেহেরপুরের মারুফ হাসান, জাহাঙ্গীর আলম ও লালটু ইসলাম, আল আমিন হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযানের সময় দুই নারীসহ চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ১০টি পাসপোর্ট, সাতটি ফাইল, চারটি সিল, ১৭টি মোবাইল, পাঁচটি রেজিস্টার, ব্যাংকের চেক বই, দুইটি কম্পিউটার, তিনটি লিফলেট এবং নগদ ১০ হাজার টাকা। র‌্যাব বলছে, টুটুল ভুয়া ওভারসিজ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে গত পাঁচ-সাত বছরে কমপক্ষে অর্ধশত নারী-পুরুষকে বিদেশে পাঠিয়েছে। এছাড়াও শতাধিক মানুষের সাথে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা করেছে চক্রটি।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এই পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য দেশের বেকার ও অসচ্ছল যুবক-যুবতীকে সৌদি আরব, জর্দান ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়িতে লোভনীয় বেতনে কাজ দেয়ার নামে রাজি করিয়ে টুটুল ও তৈয়বের কাছে নিয়ে আসে। এরপর টুটুল ও তৈয়ব ভিকটিমদের বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া মানি রিসিট দিয়ে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম নিত। পরে চক্রের সদস্যরা ভিকটিমের কাছে নিজেদের উচ্চশিক্ষিত পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়িতে কাজের প্রশিক্ষণ দিতো। চক্রের কয়েকজন সদস্য নিজেদেরকে অফিস স্টাফ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের পাসপোর্ট বানানোর সব কাগজপত্র সংগ্রহ করত। পাসপোর্ট অফিসের দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করিয়ে আনার পরে ভিকটিমের মনে আর কোনো সন্দেহ কাজ করত না। পরে ভিকটিমদের লোকদেখানো মেডিক্যাল সম্পন্ন করা হতো।
তিনি বলেন, বৈধ কিছু ওভারসিজের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে অর্ধশত নারী- পুরুষকে চক্রটি সৌদি আরব (জেদ্দা ও রিয়াদ), জর্দান ও লেবাননে পাঠিয়েছে। সেখানে চক্রটির আলাদা একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। ভিকটিমরা দেশগুলোতে যাওয়ার পর পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়। এরপর নারীদের বিক্রি ও পুরুষদের কম বেতনে অমানবিক কাজ করানো হয়। অনেক সময়, ভিকটিমদের ছাড়ানোর কথা বলে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিত টুটুল। আবার উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনেও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি। এক্ষেত্রে তৈয়ব আলী নিজেকে একটি স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দিত। শতাধিক মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে প্রতারণাও করেছে চক্রটি।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এ চক্রের বিরুদ্ধে ২৫ থেকে ৩০ জন অভিযোগ করেছে। চক্রটির সাথে বৈধ কোন ওভারসিজ জড়িত সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।