চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৮ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লোডশেডিংয়ের তথ্য চাওয়ায় তিন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম’র ঔদ্ধত্য
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৮, ২০২২ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস: লোডশেডিংয়ের তথ্য নিতে গিয়ে ঝিনাইদহের তিন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠছে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ইসাহাক আলীর বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের রাউতাইল পল্লী বিদ্যুৎ ভবনে ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ সাংবকাদিকরা হলেনচ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাদ্দাম হোসেন, সময় টিভির লোটাস রহমান সোহাগ গ্লোবাল টিভির এস এম মেহেদী হাসান জিকু।

অভিযোগ উঠেছে, এসময় আনসার সদস্য দিয়ে প্রধান গেট আটকিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণর করা হয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহের সিনিয়র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার লোডশেডিংয়ের তথ্য চাওয়া হলে জিএম ইসাহাক আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

জানা যায়, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে জেলার উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের সরবরাহ কম নাকি কারিগরি ত্রুটি, বিষয়টি জানতে গত মঙ্গলবার দুপুরে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার ইসাহাক আলীর দপ্তরে যান। সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে জিএম ইসাহাক আলী বলেন, ‘আমি কোনো তথ্য দেব না। প্রধানমন্ত্রী লোডশেডিং দিচ্ছেন আপনি তার কাছে যান।গতকাল বুধবার লোডশেডিংয়ের তথ্য জানতে আরও কয়েকজন সংবাদকর্মী সেখানে গেলে অফিসে যাওয়ার পরপরই তিনি ক্ষুব্ধ হন। তথ্য না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে অফিসের সরকারি ফাইল ছুড়ে দিয়ে অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করতে করতে অফিসকক্ষ থেকে বের হয়ে চিৎকারচেঁচামেচি করতে থাকেন এবং রুমে তালা দিয়ে আনসার সদস্যদের ডাকতে বলেন। তিন সংবাদকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে অফিসের অন্যান্যরা তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হন

খবর পেয়ে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলামকে জানালে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জিএম যে আচরণ করেছেন, তা কোনো সরকারি কর্মকর্তার আচরণ হতে পারে না। আমরা তার রুমে বসেই আছি, আর তিনি অফিসের মধ্যে নিজেই চিৎকারচেঁচামেচি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে আমরা যেন ডাকাতি করতে এসেছি। ব্যাপারে অভিযুক্ত জেনারেল ম্যানেজার ইসাহাক আলী অনুতপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।