লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

22

পণ্য ডেলিভারির আগে টাকা পাবে না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ইভ্যালির মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ক্রেতা বুঝে পাওয়ার পরই পেমেন্ট পরিশোধ করা হবে। এর আগ পর্যন্ত ক্রেতারা অর্থ দিলেও তা সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট সিস্টেমে আটকে থাকবে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য এক সপ্তাহের মধ্যে ‘এসক্রো’ নামক একটি পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা’ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডব্লিউটিও সেল) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালিসহ দেশে ব্যবসারত সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সভায় কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্রেতা পণ্য বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত পেমেন্ট পরিশোধ হবে না। সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দায় তার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লোকসানে পণ্য বিক্রি করায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ওই প্রতিবেদনটির বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ কিছু ব্যাংক ইভ্যালির সঙ্গে কার্ডে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালিসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা নিয়ে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সভা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষ। এতে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম শাখার মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, ই-কমার্স অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান তমালসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, এনবিআর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তাদের কাছ থেকে জামানত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না- জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনাও হয়নি। এমএলএম কোম্পানির মতো ঝুঁকিতে থাকা ই-কমার্সের কোনো প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যেতে পারে কি না- এমন প্রশ্নে হাফিজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারেও আলোচনা হয়নি, এটি দেখা হবে। তবে ঝুঁকি আছে। এ ধরনের ঝুঁকি প্রতিরোধে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার নীতিমালা চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার।
তিনি বলেন, কীভাবে ব্যবসা পরিচালিত হবে সে বিষয়ে দ্রুত একটি এসওপি চূড়ান্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কারও ব্যবসা বন্ধ করে দিতে চাই না। অর্থনীতিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। ছোট ছোট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনীতি চাঙায় ভূমিকা রাখছে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর এ পেমেন্ট সিস্টেম চালু করতে কত দিন লাগবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠি দেওয়ার পরপরই তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। এক সপ্তাহের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেমটি কার্যকর করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধের এ পদ্ধতিটি ‘এসক্রো’ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, অর্থ পরিশোধে এটি একটি মাধ্যম, যা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার লেনদেনে তৃতীয় পক্ষ বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট নিয়ে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য বুঝিয়ে দেয়। তবে ভোক্তার পরিশোধিত অর্থ পেমেন্টের পরপরই (তিন দিন) প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোক্তা পণ্য না পেলে তা আর ফেরত আনার সুযোগ থাকে না। নতুন সিস্টেমে ভোক্তা আগে অর্থ দিলেও তা ওই এসক্রো সিস্টেমে আটকে থাকবে। পণ্য দেওয়ার পর কানফার্মেশন মেসেজ পেলেই কেবল সেই পেমেন্ট পরিশোধ করা হবে।