চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৩ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লবণের জন্য তীব্র আয়োডিন সঙ্কট

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২৩, ২০২২ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

দেশে খাবার লবণের আয়োডিন সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আয়োডিনের জন্য অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে ‘পটাশিয়াম আয়োডেট’। এর বার্ষিক চাহিদা ৬০ টন। কিন্তু বর্তমানে দেশে রয়েছে এক টনেরও কম পটাশিয়াম আয়োডেট। এ পরিস্থিতি জরুরি ভিত্তিতে পটাশিয়াম আয়োডেট সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে বিনা টেন্ডারে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬০ টন পটাশিয়াম আয়োডেট আমদানির করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। কারণ এর আগে দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছে। বিনা টেন্ডারে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার প্রস্তাবটি আজকে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি সভাটি দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কন্ট্রোল আয়োডিন ডিফেসিয়েন্সি ডিজঅর্ডার (সিআইডিডি) প্রকল্পটি জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত প্রকল্প হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে খাবার লবণে আয়োডিন সংমিশ্রণের মাধ্যমে দেশের মানুষের আয়োডিন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০০০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ কর্তৃক পটাশিয়াম আয়োডেট বিনামূল্যে দেয়া হয়েছিল। তখন তা সল্ট আয়োডাইজেশন প্ল্যান্ট সংবলিত লবণ মিল মালিকদের কাছে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের জুলাই পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শর্ত অনুযায়ী হ্রাসকৃত দামে মিল মালিকদের কাছে পটাশিয়াম আয়োডেট বিক্রি করা হয়। যেহেতু পটাশিয়াম আয়োডেট কেনা এবং মজুদ একটি চলমান প্রক্রিয়া সেহেতু ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে পটাশিয়াম আয়োডেট আমদানি অব্যাহত রাখা হয়, যা প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত চলমান ছিল।

উল্লেখ্য, পটাশিয়াম আয়োডেট বিক্রির অর্থ প্রকল্পের আবর্তক তহবিল হিসেবে গণ্য হয় এবং ২০২২ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত তহবিলের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪২ টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে খাবার লবণের বার্ষিক চাহিদা ৮.৯০ লাখ টন। ওই পরিমাণ লবণে আয়োডিন সংমিশ্রণ করতে ৬০ টন পটাশিয়াম আয়োডেট প্রয়োজন। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ৮টি লবণ জোনে পটাশিয়াম আয়োডেটের মজুদ রয়েছে ০.৯ টন, যা দিয়ে লবণ মিলগুলো খাবার লবণে মাত্র কয়েক দিন আয়োডিন সংমিশ্রণ সম্ভব হবে।

আয়োডিন কেনার জন্য বিসিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬০ টন পটাশিয়াম আয়োডেট তিনটি প্যাকেজে কেনার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় বিসিক ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন-২০২১’ এর ধারা ১৪(২) অনুযায়ী পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে এক বা একাধিক কিস্তিতে ৬০ টন পটাশিয়াম আয়োডেট আমদানির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ নেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠায়।

সূত্র জানায়, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮’ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী, ‘সরকার, আইনের ধারা ৬৮ অনুসারে, জরুরি প্রয়োজনে তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের ক্রয়ের ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি প্রয়োগ করে ক্রয়কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।’

সূত্র জানায়, যেহেতু ৬০ টন পটাশিয়াম আয়োডেটের সম্ভাব্য আনুমানিক দাম ৫ কোটি টাকা দামসীমার ঊর্ধ্বে এবং সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয়কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন সেহেতু পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) এর আলোকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য কমিটির বৈঠকে তোলা হচ্ছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।