চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৫ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ এনবিআর!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৫, ২০২৩ ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব অনেকটাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গায়ে লেগেছে। ফলে প্রতিমাসেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে সংস্থাটি। গত ৫ মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। আর বাকি ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিষ্ঠানটির আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগ থেকে নতুন করে কৌশলপত্র চেয়েছে এনবিআর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আয় আসবে মূলত আয়কর, ভ্যাট এবং আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক থেকে। এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে বাকি ৬৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হবে। তবে চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম পাঁচ মাসে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর আগে অক্টোবর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে এনবিআররের কাছে। সেই সঙ্গে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার একটি সূচিপত্রও চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ২০ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এনবিআর চেয়ায়ম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ সব সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে। এর আগেও অভ্যন্তরীণ খাত থেকে শুল্ক-কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে সাত দফা পরিকল্পনা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে রাজস্ব আদায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় ধরনের পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এনবিআরকে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। করের ভিত্তি সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা মুশকিল। সময় ধরে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ডক্টর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এনবিআরের বর্তমান কাঠামো দিয়ে এত বিশাল লক্ষ্যমাত্রা কখনোই পূরণ সম্ভব নয়। এনবিআরের সে সক্ষমতা নেই। বড় লক্ষ্য পূরণে যে ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সেটা করা হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বছরের মাঝপথে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমানো একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা কমানো হোক বা অপরিবর্তিত রাখা হোক- এনবিআর কখনোই সেটা অর্জন করতে পারবে না। এবার অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬২০ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৯ হাজার ৭১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই খাতে আদায় হয়েছে ৪৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ঘাটতি ৯৯৩ কোটি টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে নভেম্বরে আয়কর মাস চললেও প্রথম ৫ মাসে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতেও ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে এনবিআর। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। আর একই সময় আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক-কর আদায় সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। এই খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঘাটতিতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজস্ব আদায়ে ৪৪ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই খাতে এনবিআরের সংগ্রহ ৩৮ হাজার ৬০ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে নভেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের সাময়িক হিসাব বলছে, ওই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ৭০৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। ঘাটতি ৩ হাজার ৩২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। নভেম্বরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ২৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ শতাংশ আহরণ করতে সক্ষম হয়েছে এনবিআর। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি থেকে আদায় হয় ৮ হাজার ১২৩ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক থেকে ৯ হাজার ৯৮৬ দশমিক ৫৪ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ নভেম্বরে আয় হয়েছে ৬ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। তিন বিভাগে ঘাটতি যথাক্রমে প্রায় ১ হাজার ৭৩৪ কোটি, প্রায় ৯৬৬ কোটি ও প্রায় সাড়ে ৬২৫ কোটি টাকা। এর আগে চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ছিল সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। এনবিআর থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নির্ধারিত সময় ১ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও ৬৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ করদাতা এখনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। সংখ্যার হিসাবে যার পরিমাণ ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬৬ জন। আর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২৮ লাখ ৫২ হাজার ২৩৪ জন করদাতা। অর্থাৎ প্রায় ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ টিআইএনধারী করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন
জানা যায়, ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন করা করদাতা ৮৩ লাখের বেশি। অথচ ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬৬ হাজার ৪৬৯ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করেছেন ২৮ লাখ ৫২ হাজার ২৩৪ জন করদাতা। এ ছাড়া সময় বৃদ্ধির আবেদন জমা পড়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৯টি। যার বিপরীতে আয়কর এসেছে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে এনবিআরের নতুন ডিজিটাল পস্ন্যাটফর্ম ই-রিটার্নে বেশ ভালো সাড়া মিলেছে। পরীক্ষামূলক চালু হওয়া অনলাইন মাধ্যমে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।