লকডাউনে মানবিক সহায়তা নিয়ে কর্মহীনদের পাশে পুলিশ : চুয়াডাঙ্গার এসপি জাহিদ

363

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন দরিদ্র ও দুস্থ ৫ হাজার ১২৬টি পরিবারকে খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ও বিভিন্ন হাটবাজারের সামাজিক দূরত্ব বজায় কার্যকর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। প্রথম পর্যায়ে আমরা কর্মহীন দরিদ্র ৫ হাজার ১২৬ পরিবারের মধ্যে খাদ্য-সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৩ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি আলু, ১/২ লিটার সয়াবিন তৈল, ৫ শ গ্রাম লবন, ১টি লাউ, ১টি মিষ্টি কুমড়া, ১ প্যাকেট নুলডস, ১ প্যাকেট টোস্ট বিস্কুট, ৫ শ গ্রাম পেঁয়াজ, ১ শ গ্রাম গুড়া হলুদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছি। এছাড়া আরও ৫ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখার স্বার্থে জনসমাগম না করে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ সদস্যরা খাদ্য-সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা চলবে।
তিনি আরও বলেন, জেলার পাঁচটি থানা ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সাবান ও রান্নাকরা খাবার বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। এ ছাড়া ‘খাদ্য যাবে বাড়ি’ নামে ১টি ইউনিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতে খাদ্যসামগ্রী পেতে আগ্রহী প্রার্থীগণ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গার হেল্প ডেস্কে এসে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল এন্ট্রি করে গেলে বা পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গার ফোনে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার এসএমএস ও ফেসবুকে ইনবক্স করলে রাতের অন্ধকারে তাদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’


এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসরত জনসাধারণকে সচেতন করতে গত ২০ মার্চ ১২ হাজার লিফলেট বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি সর্ম্পকে জনগণকে সচেতন করতে পুলিশের প্রত্যেক অফিসের সামনে সাইন বোর্ড/ব্যানার প্রদর্শন, প্রত্যেক থানা এলাকার গ্রামে গ্রামে একাধিকবার মাইকিংসহ গান-বাজনার মাধ্যমে করোনাভাইরাস সর্ম্পকে সচেতনামূলক প্রচারণা, প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা প্রত্যেক অফিসের সামনে বিল বোর্ড আকারে প্রদর্শন ও হ্যান্ড লিফলেট বিতরণ, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সুরক্ষা-সামগ্রী বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই বার ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অনান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে সব কার্যক্রম পরিচালনা, মহামারি দেখা দিলে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, অফিসার ও ফোর্সের মধ্যে মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের ওয়েলফেয়ার নিশ্চিতকরণ, সরকারি নির্দেশনা মেনে যথাযথ লকডাউন সুনিশ্চিতকরণ, লকডাউনকৃত বাড়িতে লাল পতাকা সংযোজন ও সাধ্যমত খাদ্যসহায়তা প্রদান, এতিমখানার এতিমদের সঙ্গে ইফতারকরণ ও ইফতারের প্যাকেট প্রদান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবার ও কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের বাসায় ঈদ উপহার-সামগ্রী প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।