চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২ আগস্ট ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লকডাউনে পশুহাট বন্ধ, গরু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২, ২০২১ ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

আরিফ হাসান, হিজলগাড়ী:
করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব পশুহাট বন্ধ রয়েছে। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন গরুর ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা বাছুর গরু বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদরের দোস্ত গ্রামের প্রায় ৩০ জন গরু ব্যবসায়ী। পশুর হাট বন্ধ থাকায় দোস্ত গ্রামজুড়েই রাস্তার পাশে পৃথক পৃথকভাবে বসানো হয়েছে গরুর হাট। যেখানে আশপাশের গ্রাম ও জেলার বাইরে থেকেও গরু কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন গরুর ক্রেতারা। তবে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। তা ছাড়া রাস্তার পাশে গরুর খোয়াড় বসানোর কারণে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের প্রায় অধিকাংশ মানুষই গরুর ব্যবসার সাথে নিয়োজিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় গরু পাইকারি ক্রয় করে এনে জেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট শিয়ালমারী, ডুগডুগিসহ অন্যান্য হাটে বিক্রি করে থাকেন। কোরবানির ঈদের আগেও তাঁরা কুড়িগ্রাম, বুড়িমারী সীমান্তসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু ক্রয় করে নিয়ে আসে বিক্রির উদ্দেশ্যে। কিন্ত দেশে করোনা মহামারির বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকল পশু হাট বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যাপারীরা গরু বিক্রি করতে পারেনি। সে কারণে গরুগুলো নিজ নিজ বাড়িতে রাখতে বাধ্য হন। লোকসান এড়াতে বাড়ি থেকেই বিক্রি করা হচ্ছে গরুগুলো।
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধার-দেনা করে গরু ক্রয় করে এনেছি, যাদের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি, তাদের গরু বিক্রি করে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও লকডাউনে পশুর হাট বন্ধ থাকায় গরুর বিক্রি করতে পারছি না। কিন্ত পাওনাদার তো আর সে কথা শুনছে না। সে কারণে খুব লাভের আশা ছেড়ে আসল দামেই গরু বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। তবে সারা দিনে ২-৩টা গরু বিক্রি হচ্ছে।’
মনিরুল ইসলাম নামের আরেক গরুর ব্যবসায়ী বলেন, ‘লকডাউনে গরুর হাট বন্ধ। তবে আমাদের পেট তো আর বন্ধ নেই। গরু তো স্টক করে রাখার জিনিস না। প্রতিদিন গরুগুলোকে খাবার দিতে হচ্ছে। কবে গরুর হাট খুলবে, তাও ঠিক নেই। এখন বাধ্য হয়েই আসল দামেই গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সালেহ বলেন, দোস্ত গ্রামে প্রায় শতাধিক গরুর ব্যাপারী আছেন। গরু ক্রয় ও বিক্রয় পেশার সাথে জড়িত আছে অনেক পরিবার। লকডাউনের কারণে পশুহাট বন্ধ থাকায় ব্যাপারীরা নিজ নিজ বাড়িতে গরু রেখেছে। এখান থেকে দিনে ১-২টা বিক্রি হচ্ছে।
দোস্ত গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মানুষ বলেন, গ্রামজুড়ে পশুহাট বসানোয় বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ক্রয় করতে আসছে মানুষজন। যাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। যার ফলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।