চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭ ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রোহিঙ্গা মিয়ানমারের পুরনো সমস্যা। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার পর থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার কথা উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে দমন অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সরকারের হিসাবেই, গত এক সপ্তাহে রাখাইনে সহিংসতায় অন্তত চারশ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে বেসামরিক রোহিঙ্গাই বেশি। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় গত এক সপ্তাহে ২৬০০ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আবারো বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, সংঘাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা এই কয়েক দিনে মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়েছে, যাদের অধিকাংশই প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। কক্সবাজার ও বান্দরবানে নাফ নদী পেরিয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের দিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে। হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ কিছুই বাদ যাচ্ছে না। ঘরবাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের সাহায্য করছে দালালচক্র। বিজিবিও সবাইকে ঠেকাতে পারছে না। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে বলছে সীমান্ত খুলে দিতে। দেশে বৈধ-অবৈধ রোহিঙ্গা আগে থেকেই রয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ কতজনকে ঠাঁই দিতে পারবে? আগে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ আরো বড় হুমকি ডেকে আনবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ভূমিকা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পেরেছিল। পরবর্তী সরকারগুলো এ কাজে সাফল্য দেখাতে পারেনি, আন্তর্জাতিক ফোরামেও তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল অনুপস্থিত। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা যে বাড়ছে এর মূল কারণ আমাদের দুর্বলতা।
রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় ও অমানবিক সমস্যায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা দরকার। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করার উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের এ দেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করে তাদের নিজ ভূখ-ে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করে সমাধানের পথ বের করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা জোরালো ভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে সীমান্ত খুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং শরণার্থীদের খরচ জোগান দেয়ারও প্রস্তাবের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে আমরা মনে করি এক্ষেত্রে সীমান্ত খুলে দেয়া স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বিশ্বসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব লাভ নিশ্চিত করতে হবে। কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সব দেশ ও জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির সদস্যদেরও অভ্যন্তরীণ দলাদলি ভুলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত বলেই আমরা মনে করি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।