চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৩১ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলপথে ৭ মাসে নিহত ১৭৮

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ৩১, ২০২২ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ায় রেলক্রসিংয়ে গত শুক্রবার মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। এ নিয়ে দেশের রেলপথে দুর্ঘটনায় গত ৭ মাসে ১৭৮ জন মারা গেছেন। এসময়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৫২টি। শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ‘সেভ দ্য রোড’-এর মহাসচিব শান্তা ফারজানা। এদিকে, এদিন অন্য এক বিবৃতিতে ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ জানিয়েছে গত ৭ মাসে শুধু রেলক্রসিংয়ে ৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সব দুর্ঘটনায় ৭৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

‘সেভ দ্য রোড’-এর দাবি, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা গেটকিপারদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে। ২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১৮টি ইলেকট্রনিকস মিডিয়া, ২২টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সারাদেশে সেভ দ্য রোডের স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ প্রতিবেদন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের রেলপথে দুই হাজার ৮৫৬টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এরমধ্যে অবৈধ এক হাজার ৩৬১টি। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ শতাংশই রেলক্রসিং অবৈধ। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ৩৩টি ক্রসিং কে বা কারা ব্যবহার করছে, তা কেউ জানে না। এ ছাড়া বৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর মধ্যে ৬৩২টিতে গেটকিপার নেই। অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোতে নেই কোনো সুরক্ষা সরঞ্জামও।

এতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। এতে আহত হয়েছেন ৫২ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন। ফেব্রম্নয়ারিতে রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১টি। এতে আহত হয়েছেন ১১১ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৭ জন। ১ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি। এতে আহত হয়েছেন ১৮৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩১ জন। ১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১২টি। এতে আহত হয়েছেন ১৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৪২ জন। মে মাসে রেলপথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২২১ জন এবং মারা গেছেন ২৩ জন। এ মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১২টি। জুনে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। এতে আহত হয়েছেন ১৭২ জন এবং মারা গেছেন ১৭ জন। জুলাই মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪২টি। এ মাসে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৪ জন। সেভ দ্য রোড দাবি, রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর আহতদের সরকারি অর্থায়নে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রেলওয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে সেভ দ্য রোডের পক্ষ থেকে সাতটি সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে- ১. অবৈধ ক্রসিংগুলোর সমাধান করা। ২. দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। ৩. সরকারি লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ’-এর নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রেলকে গণমুখী বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করা ৪. যত দ্রম্নত সম্ভব বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেসরকারি খাত থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে পরিচালনার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৫. সচিব-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের আরাম-আয়েশ বাতিল করে সারাদেশে রেলওয়ের উন্নয়নে নিবেদিত থাকা। ৬. যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সারাদেশের সব স্থানে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ৭. প্রতি তিন কিলোমিটারে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেলওয়ে পুলিশের বিশেষ বুথ স্থাপন করা।

এদিকে, গতকাল শনিবার অন্য এক বিবৃতিতে ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ জানিয়েছে গত ৭ মাসে শুধু রেলক্রসিংয়ে ৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সব দুর্ঘটনায় ৭৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিবৃতিতে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কিছু কারণও তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে- ১. অননুমোদিত ও অবৈধ বিবেচনা করে বহু রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান ও গেটবারের ব্যবস্থা না করা। ২. বৈধ রেলক্রসিংসমূহে গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা এবং গেটম্যানের সংকট। ৩. যানবাহনের চালক ও সড়কে চলাচলকারীদের মধ্যে অসচেতনতা ও ধৈর্যের অভাব। ৪. দুর্ঘটনায় দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া এবং রেলপথ ব্যবস্থাপনায় আইনের শাসনের অভাব। দেশের ২ হাজার ৯৫৯ কিলোমিটার রেলপথে ২ হাজার ৮৫৬টি রেলক্রসিং আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৯৫টি বৈধ এবং ১ হাজার ৩৬১টি অবৈধ। ৯৬১টি রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। দেশে ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অনিরাপদ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আরও জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনে শুধু রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উলেস্নখ করা হয়েছে। এর বাইরে রেলট্র্যাকে বহু দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, সেগুলো এই হিসাবে যুক্ত করা হয়নি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।