রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

624

ধর্ম ডেস্ক: মানুষ সামাজিক প্রাণী। সমাজ ও সমাজের লোকজন ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। জীবন পরিচালনার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, কৃষিকাজ সব ক্ষেত্রেই একে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন আর সমাজে মিলেমিশে এসব কাজ করতে গেলে কিংবা অধীনস্থদের মাধ্যমে করাতে গেলে ভুলত্রুটি এবং কিছু মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। সেজন্য মনে রাগ-ক্ষোভ না রাখতে এবং পরস্পরকে ক্ষমা করে দিতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। সাহাবি হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘ দশ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমত এবং অন্যান্য কাজকর্ম করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কখনো কোনো রকমের মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো আনাস (রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন
ধর্ম ডেস্ক: মানুষ সামাজিক প্রাণী। সমাজ ও সমাজের লোকজন ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। জীবন পরিচালনার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, কৃষিকাজ সব ক্ষেত্রেই একে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন আর সমাজে মিলেমিশে এসব কাজ করতে গেলে কিংবা অধীনস্থদের মাধ্যমে করাতে গেলে ভুলত্রুটি এবং কিছু মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। সেজন্য মনে রাগ-ক্ষোভ না রাখতে এবং পরস্পরকে ক্ষমা করে দিতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। সাহাবি হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘ দশ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমত এবং অন্যান্য কাজকর্ম করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কখনো কোনো রকমের মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো আনাস (রা.) এর প্রতি রাগ-ক্ষোভ দেখাননি। তিনি কখনো বলেননি, তুমি এই কাজটি কেন করেছ। আনাসও (রা.) কখনো এমন কাজ করেননি-যার জন্য এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যারা নিজের ক্রোধ সংবরণ করে এবং অন্যের কৃত অপরাধ ক্ষমা করে দেয়, তাদের আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীল মুত্তাকি-পরহেজগার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)। যারা ক্ষোভের সময় মানুষকে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘এবং যখন রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়’ (সূরা শূরা, আয়াত: ৩৭)। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে অথচ তা প্রয়োগ করার মতো ক্ষমতা তার আছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে সব মানুষের সামনে ডেকে বলবেন, তুমি হুরদের থেকে যাকে পছন্দ কর গ্রহণ করতে পার’ (তিরমিজি)। অর্থাৎ মানুষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা তার সুনাম ছড়াবেন, তার প্রশংসা করবেন এবং তাকে নিয়ে তিনি অহংকার করবেন। যার ফলে তাকে আল্লাহ তায়ালা যে কোনো হুরকে গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেবেন। একটি কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’। কথাটি অনেক যুক্তিসঙ্গত ও তাৎপর্যময়। রাগ-ক্ষোভ দেখিয়ে যে কাজ আদায় করা যায় না, বিনয় ও ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে তা অতি সহজে আদায় করা যায়। রাগ-ক্রোধের মাথায় যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা ত্রুটিপূর্ণ হয়। মনে রাগ নিয়ে কোনো কাজই সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।
.) এর প্রতি রাগ-ক্ষোভ দেখাননি। তিনি কখনো বলেননি, তুমি এই কাজটি কেন করেছ। আনাসও (রা.) কখনো এমন কাজ করেননি-যার জন্য এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যারা নিজের ক্রোধ সংবরণ করে এবং অন্যের কৃত অপরাধ ক্ষমা করে দেয়, তাদের আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীল মুত্তাকি-পরহেজগার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)। যারা ক্ষোভের সময় মানুষকে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘এবং যখন রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়’ (সূরা শূরা, আয়াত: ৩৭)। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে অথচ তা প্রয়োগ করার মতো ক্ষমতা তার আছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে সব মানুষের সামনে ডেকে বলবেন, তুমি হুরদের থেকে যাকে পছন্দ কর গ্রহণ করতে পার’ (তিরমিজি)। অর্থাৎ মানুষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা তার সুনাম ছড়াবেন, তার প্রশংসা করবেন এবং তাকে নিয়ে তিনি অহংকার করবেন। যার ফলে তাকে আল্লাহ তায়ালা যে কোনো হুরকে গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেবেন। একটি কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’। কথাটি অনেক যুক্তিসঙ্গত ও তাৎপর্যময়। রাগ-ক্ষোভ দেখিয়ে যে কাজ আদায় করা যায় না, বিনয় ও ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে তা অতি সহজে আদায় করা যায়। রাগ-ক্রোধের মাথায় যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা ত্রুটিপূর্ণ হয়। মনে রাগ নিয়ে কোনো কাজই সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।