চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৩ জুলাই ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন দাবিতে অনড় অবস্থান

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৩, ২০১৯ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে দ্বিতীয় দিনের মতো পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মসূচি পালন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে পৌরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য প্রায় সব সমাবেশ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা:
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গার চারটি পৌরসভার কয়েক শ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তীব্র রোদ্র উপেক্ষা করে গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টায় জেলার চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়, চলে বেলা একটা পর্যন্ত। এ ছাড়া আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আগামীকাল সকাল ছয়টা পর্যন্ত সড়কবাতি, কঞ্জারভেন্সি সেবাসহ অন্য সব দাপ্তরিক সেবা বন্ধ রাখা হয়।
বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন, জেলা কমিটির উপদেষ্টা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা সাজেদা আক্তার, জেলা কমিটির সহসভাপতি আশাবুল হক বিশ্বাস, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুস সবুর খান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা পৌরসভার সভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাস, জীবননগর পৌরসভার সভাপতি আবুল কামাল, দর্শনার সাবেক সভাপতি সরোয়র হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ও অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পৌর সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ুব আলী বিশ্বাস।
বক্তারা বলেন, ‘সরকারি সব নিয়মনীতি মেনে পৌরসভায় চাকরি করলেও আমরা সরকারি কোষাগার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাই না। কেবলমাত্র পৌরসভার রাজস্ব আয় থেকে আমাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে হয়। এর ফলে অধিকাংশ পৌরসভায় ৩ থেকে ৫৭ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়, তবে পৌরবাসীদের উত্তম সেবা দেব কীভাবে? সরকার বাজেট ঘোষণা করলেও সেই বাজেটে আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিফলন নেই।’ বক্তারা জানান, বিগত পাঁচ বছর যাবৎ কেন্দ্রীয়ভাবে অনেক আবেদন করার পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা এ আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছেন।
অবস্থান সমাবেশে এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ১৪ জুলাই রোববার ঢাকা প্রেসক্লাব ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের সব কটি পৌরসভার সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মহাসমাবেশসহ আমরণ অবস্থান কর্মসূিচ পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পৌরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য সমাবেশ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
মেহেরপুর:
সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা, পিএফ ও গ্রাচ্যুইটির শতভাগ পেনশন প্রথা চালু করার দাবিতে মেহেরপুরের দুটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে পৌর এলাকায় সব ধরনের সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে করে নাগরিক-সেবা নিতে গিয়ে সেবাবঞ্চিত হয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে ওই কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা একটা পর্যন্ত চলে। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ও মেহেরপুর পৌরসভার সচিব তফিকুল আলমের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামিম রেজা, পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান দিপু, সহকারী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপসহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল হক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম খান, আব্দুল মান্নান খান, শফিউদ্দিন, কনিকা পারভিন, হাবিবুর রহমান, গাংনী শাখার সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ।
ঝিনাইদহ:
সরকারি কোষাগার থেকে পৌরসভার কর্মচারী-কর্মকর্তাদের শতভাগ বেতন-ভাতা ও পেনশন প্রথা চালুর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইদহ জেলা শাখা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঝিনাইদহ পৌরসভার সচিব মোস্তাক আহমেদ মিল্টনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আলীম মোল্লা। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল রিম মিন্টু। এ ছাড়া পৌর কমিশনারদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম মধু, সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম বাদল, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মুন্সি আবু জাফর, মহেশপুর পৌরসভার ষষ্ঠী চরণ রায় চৌধুরী, আব্দুর রহমান রিপন, অঞ্জলী রানী রায়, বুলবুলি ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তাগণ বলেন, ‘একই দেশে দুই নীতি ও আইন চলতে পারে না। তাই আমাদের রুটি-রুজির এ আন্দোলন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’ কর্মসূচিতে ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় কর্মরত পৌরসভার শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।