বিধি লঙ্ঘন করে আ.লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটকাজে অংশগ্রহণ

রায়পুর ইউপি নির্বাচনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জীবননগর উপজেলার বাড়ান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাহাজ্জত হোসেন মির্জার পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট কাজে অংশ নেওয়াসহ অন্যান্য প্রার্থীর কর্মীদের নির্বাচন না করতে হুমকি ও আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে। জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ শাহ্ গতকাল বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাহাজ্জত হোসেন মির্জার অনুসারী কিছু দুুর্বৃত্ত ভোট কাজে অংশ নিতে আমিসহ আমার কর্মীদের বাঁধা সৃষ্টি করছে। এদিকে বাড়ান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মশিয়ার রহমান সরকারি চাকরির বিধি-বিধান ও নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের কাজ বাদ দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ এবং আমাদের কর্মীদের নির্বাচন কাজে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি ও আক্রমণ করছে। ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শিক্ষক মশিয়ার রহমান বলছে, কেউ নৌকা প্রতীকের বাইরে ভোট দিলে তাদের হাত-পা ভেঙে এলাকা ছাড়া করা হবে। একজন শিক্ষকের এমন আচরণে এলাকার সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ওই শিক্ষক এ ধরনের জঘন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন কাজে অংশগ্রহণ করছি এটা ঠিক, তবে অন্যান্য প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি, এলাকার ভোটারদের ভোট না দিলে হাত-পা ভেঙ্গে এলাকা ছাড়ার হুমকি আমি দিইনি।’ রিটার্নিং অফিসারের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি বিধি লঙ্ঘনের যে শাস্তি হয়, সেটা আমাকে মেনে নিতেই হবে। এর বেশি কী বলব।’
সরকারি চাকরির বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের কাজ বাদ দিয়ে বাড়ান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মশিয়ার রহমান নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণার কাজ করে বেড়াচ্ছে এবং অন্যান্য প্রার্থীর কর্মীদের নির্বাচন কাজে অংশ নিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে এ ধরনে একটি অভিযোগ জীবননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জীবননগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, ‘অভিযোগটি আমি এখনো হাতে পায়নি। তবে একজন সরকারি চাকরিজীবী কারো পক্ষে ভোট কাজে অংশ নিতে পারবে না। এটা সরকারি চাকরির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগপত্রটি হাতে পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার কামরুল হাসান বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি পর্যালোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’