চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাত পোহালেই ভোট : লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে!

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৭, ২০২০ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তীব্র শীতেও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে ছড়িয়েছে উত্তাপ : কে হবেন পৌর পিতা, খোকন নাকি মনি?

চায়ের আড্ডায় প্রার্থীর দোষ-গুণ নিয়ে বিশ্লেষণ; স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনেকেই হারাতে পারেন জামানত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাত পোহালেই চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন। আগামীকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে গত রাত ১২টায়। তীব্র শীতের মধ্যেও ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পৌর এলাকার আনাচে-কানাচে। পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে শহরের অলি-গলি-বাজার। বিভিন্ন রাস্তাঘাটে ঝুলছে ব্যানার-ফেস্টুন। ভোটের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত নেতা-কর্মীদের পদচারণায় দলীয় কার্যালয়গুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি অলিগলির চায়ের দোকান থেকে হাটবাজারে এখন সর্বত্র ভোটের আলোচনা। চায়ের আড্ডায় প্রার্থীর দোষ-গুণ নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন সাধারণ ভোটাররা। পছন্দের প্রার্থী নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে কড়া আলোচনা-সমালোচনাও করছেন তাঁরা। গুঞ্জনে নৌকা এবং ধানের শীষই বেশি শোনা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া, লড়াই হবে দ্বিমুখী। দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় শহরে বেশি। নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরাও সবার কাছে ভোট চেয়েছেন বেশি। প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে দেখা গেছে, ধানের শীষ এবং নৌকার সমর্থকদের পাড়ায় পাড়ায় দল বেঁেধ ভোট চাইতে।
নৌকা এবং ধানের শীষের দুই প্রার্থীই বর্তমান পৌর পরিষদের কাউন্সিলর। দুজনেই বেশ কয়েকবার নির্বাচিত। নিজ নিজ ওয়ার্ডে ছিল তাঁদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এখন সেই জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছে পুরো পৌর এলাকায়।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বেশ কয়েকবার তাঁর ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় প্রতীক পাওয়ায় বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ ভালো। মাঠে আলোচনায় আছেন তিনি। দ্বিমুখী লড়াইয়ে তিনিই কি হবেন আগামীর পৌর পিতা, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর তিনি। কাউন্সিলর হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ ভালো ছিল। সিরাজুল ইসলাম মনি পৌর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাসহ পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। জেলা বিএনপির বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন সামনে থেকে। দলের জন্য বিভিন্ন সময় মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। করেছেন কারাবরণ। দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। সবমিলিয়ে এবারের পৌর নির্বাচনে তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দ্বিমুখী লড়াইয়ে তিনিই কি হবেন আগামীর পৌর অভিভাবক, সেটি এখন সবার মুখের প্রশ্ন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মজিবুল হক মালিক মজু। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। দলীয়ভাবে বিতর্কিত হলেও মাঠে তাঁকে নিয়ে আলোচনাও কম নয়। এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলনের তুষার ইমরান (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ মাসরিকী (কম্পিউটার), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মনিবুল হাসান পলাশ (নারিকেল গাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. সৈয়দ ফারুক উদ্দিন আহম্মেদ (জগ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনেকেই হারাতে পারেন তাঁদের জামানত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এছাড়াও সাধারণ ওয়ার্ডের বিপরীতে ৬৪ জন কাউন্সিলর ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৩ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তাঁরা হলেন-
সংরক্ষিত ওয়ার্ড:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে মোট ১৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলে ১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে শাহিনা আক্তার (চশমা), নাসরিন পারভীন (জবা ফুল), চাঁদনি খাতুন (অটোরিক্সা) ও সুফিয়া খাতুন (আনারস)। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলে ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিলকিস নাহার (চশমা), সুলতানা আঞ্জু (আনারস), হাসিমা খাতুন (টেলিফোন)। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মিলে ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে শেফালী খাতুন (চশমা), শাহানা খাতুন, মোমেনা খাতুন (জবা ফুল), জাহানারা খাতুন (আংটি), জাহানারা বেগম (অটোরিক্সা) ও আন্না খাতুন (আনারস)।
সাধারণ ওয়ার্ড:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে স্ক্রু ড্রাইভার প্রতীকের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বেল্টুর মৃত্যুর কারণে ভোট আপাতত স্থগিত করেছে নির্বাচর কমিশন। তবে অন্য ৮টি ওয়ার্ডে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এরমধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- মুন্সি রেজাউল করিম খোকন (গাঁজর), আবুল কালাম (পানির বোতল), আব্দুল আজিজ জোয়ার্দ্দার (ডালিম), আজিজুর রহমান (পাঞ্জাবি), কামরুজ্জামান বাবলু (উটপাখি), মহিবুল ইসলাম (ব্লাক বোর্ড), আলী হোসেন (ব্রিজ), খায়রুল হক (ঢেঁড়শ), ও আজম আলী মিলন (টেবিল ল্যাম্প)।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- মহলদার ইমরান রিণ্টু (পানির বোতল), আলমগীর হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), জাহিদ হোসেন জুয়েল (ডালিম), নাজরিন পারভীন (পাঞ্জাবি), জাহিদুল ইসলাম (উটপাখি), আমিরুল ইসলাম (ব্রিজ) ও শরিফ আহমেদ (গাঁজর)।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- শেখ সেলিম (ডালিম), মাফিজুর রহমান মাফি (টেবিল ল্যাম্প), দেলোয়ার হোসেন দয়াল (পাঞ্জাবি) ও তারিকুজ্জামান (উটপাখি)।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- গোলাম মোস্তফা শেখ (ডালিম), নাজমুল হক মিণ্টু (ব্লাক বোর্ড), মুন্সি আলাউদ্দীন আহমেদ (ব্রিজ), সাইফুদ্দিন (পানির বোতল), আলম (উটপাখি), শাহীনুর রশিদ (পাঞ্জাবি) ও মিজানুর রহমান (টেবিল ল্যাম্প)।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- আব্দুল মান্নান জোয়ার্দ্দার (ব্রিজ), মোনাজাত শেখ (ডালিম), আজাদ আলী (পানির বোতল), আলামিন ইসলাম (উটপাখি), রফিকুল ইসলাম (গাঁজর), ফরজ আলী শেখ (পাঞ্জাবি), রাশেদুল হাসান (টেবিল ল্যাম্প)।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- খালিদ মণ্ডল (ডালিম), উজ্জ্বল হোসেন (পাঞ্জাবি), মজনুল হক (টেবিল ল্যাম্প), আবুল হোসেন (উটপাখি), সুমন হোসেন (গাঁজর), সাইফুল আরিফ বিশ্বাস (ব্লাক বোর্ড), আশাবুল হক (ব্রিজ) ও জয়নাল আবেদীন (পানির বোতল)।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- সাইফুল ইসলাম (গাঁজর), আহসান (পাঞ্জাবি), ফিরোজ শেখ (ব্লাক বোর্ড), শের আলী বিশ্বাস (উটপাখি), টুটুল মোল্লা (ডালিম) ও আবু কাউসার বিশ্বাস (পানির বোতল)। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- সাংবাদিক কামরুজ্জামান চাঁদ (টেবিল ল্যাম্প), আমান উল্লাহ (উট পাখি), ইব্রাহিম শেখ ইমরান (পানির বোতল), আতিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার (ডালিম), সুমন আহমেদ (ব্লাক বোর্ড), আলাউল ইসলাম (পাঞ্জাবি), মফিজুর রহমান (ব্রিজ) ও শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার (গাঁজর)।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই নির্বাচনে ভোটাররা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি কেন্দ্রের সবগুলোতে ইভিএমে ভোট প্রদান করবেন। তবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ নিয়ে কোনো কোনো প্রার্থীর চোখেমুখে শঙ্কার ছাপ দেখা দিলেও নির্বাচন কমিশন বলছেন, ‘ইভিএমে কোনো ধরনের জালিয়াতি করা সম্ভব না। তাই শঙ্কার ভাবনা অমূলক।’
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭৭৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ৩২ হাজার ৮০৪ জন ও নারী ৩৪ হাজার ৯৭০ জন। ভোট কেন্দ্র ৩৩টি। এবার প্রথম ইভিএম-এর মাধ্যমে আগামীকাল ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।