রাতের আকাশে ‘বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ

472

ডেস্ক রিপোর্ট: অনেকটা বেরসিকের মতোই আবির্ভূত হয়েছিল মাঘের কুয়াশা। ১৫২ বছর পরে বিশ্ববাসীর সামনে উঁকি দিয়েছিল ‘সুপার ব্লু-ব্লাড মুন’ বা ‘বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ’। বিরল ওই চাঁদ দেখতে রাজধানী ঢাকার মান্ডায় গ্রিন মডেল টাউনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়েছিলেন মহাকাশপ্রেমীরা। কিন্তু মাঘের কুয়াশা তাতে বাদ সাধে। কুয়াশার সহযোগী হয়েছিল মেঘও। ফলে ঘন কুয়াশা এবং মেঘের কারণে শুধু সুপার ব্লু মুনই নয়, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণও দেখতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে সমবেতদের।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের উপরে ওঠার পর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে আংশিক গ্রহণ ও ৬টা ৫১ মিনিটে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। এ চন্দ্রগ্রহণের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা দেখাতে দেশের বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মধ্যবর্তী অংশ ৭টা ২৯ মিনিটে সংঘটিত হয়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সর্বমোট এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট স্থায়ী হয়। রাত ১০টা ৮ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায় শেষ হয়।
উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতি দুই বছর আট মাস অন্তর “ব্লু মুন” ঘটে। সেই সাথে হয় “সুপার মুন”। এই ঘটনায় পৃথিবী থেকে দূরত্ব খানিকটা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা থেকে শতকরা ১৪ ভাগ পর্যন্ত বেশি বড় এবং ৩০ ভাগ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল দেখায় চাঁদ। শুধু তাই নয়, চাঁদ একপর্যায়ে পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে সাদা থেকে কমলা বা লাল বর্ণ ধারণ করে। ফলে দেখা যায় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট মোটামুটি সরলরেখায় অবস্থান করে চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে সন্ধ্যার শুরুতেই এই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। এই তিন ঘটনাকে একত্রে বলা হচ্ছে “এস্ট্রোনোমিকাল ট্রাইফ্যাক্টা”।