রাজশাহীতে আজ প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

সমীকরণ প্রতিবেদন:
এক দিনের সফরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর পর আজ রোববার সকালে তিনি রাজশাহী পৌঁছবেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। পরে দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদাাসা মাঠে (বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষ করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একযোগে রাজশাহীর ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে ২৫টির কাজ শেষ হয়েছে। আর ছয়টির কাজ চলমান। আ’লীগের নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আরো কিছু প্রকল্প ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে নেতাদের দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি তিনি ভোট চাইবেন। সেই সাথে এই অঞ্চলের আরো উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করতে পারেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী এসে ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণকাজ, রাজশাহী আঞ্চলিক পিএসসি ভবন নির্মাণকাজ, শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন, বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, শহীদ জননী জাহানার ইমাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০তলা বিশিষ্ট একাডেমি ভবন, রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ষষ্ঠ থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত নির্মাণকাজ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের হেড কোয়ার্টার, রাজশাহী ন্যাশনাল হাট ফাউন্ডেশন ভবন, মোহনপুর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী সরকারি শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উদ্বোধন। এ ছাড়া শেখ রাসেল শিশুপার্ক, মোহনপুর রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার, নগরীর বন্ধ গেট-সিটি বাইপাস পর্যন্ত অযান্ত্রিক যানবাহন লেনসহ ফোর লেন সড়ক নির্মাণকাজ, মহানগরীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী সড়ক প্রশস্তকরণ ও সম্প্রসারণ কাজ, ভদ্রা রেলক্রসিং থেকে পারিজাত লেক হয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক উদ্বোধন, হাইটেক পার্ক থেকে ঢালুর মোড় পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ, পুঠিয়া-বাগমারা মহাসড়ক উন্নয়নকাজ, রাজশাহী সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ, চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাল্টিপারপাস ভবন, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের ছয় তলা বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, রাজশাহী সদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বাগমারার ভবানীগঞ্জ-কেশরহাট সড়ক, পদ্মা নদীর ড্রেজিং প্রকল্প, রাজশাহী পিটিআইয়ের বহুমুখী অডিটোরিয়াম নির্মাণ, রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাদরে বরণ করতে রাজশাহী মহানগরীকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সর্বত্র শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। এসব ব্যানারে সরকারের উন্নয়নচিত্র বেশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এমন নেতারাও রঙিন পোস্টার টাঙ্গিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর এ ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা উপস্থিত জনতার কাছে আওয়ামী লীগের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় ও ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চারঘাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পবার হরিয়ানের জনসভায় হাজির হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ দিকে মাদরাসা মাঠে নৌকার আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ। পাশাপাশি জনসভাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। জনসভায় ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নেতাকর্মীরা। উৎসবের আমেজে আছেন তারা। খণ্ড খণ্ড মিছিল, লিফলেট বিলিসহ মানুষকে জনসভায় আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তারা। মহল্লায় মহল্লায় চলছে মাইকিং। পাশাপাশি নিজেদের সব নেতাকর্মীর জনসভায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চালাচ্ছেন সাংগঠনিক তৎপরতা। খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রোববারের জনসভায় সাত লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো মহানগরী জনসভার মাঠে পরিণত হবে। ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জনগণ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাদরাসা ময়দানের বাইরে আশাপাশের এলাকাগুলোও লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে আশা করছি।
জনসভা উপলক্ষে ৭ বিশেষ ট্রেন : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের জনসভার জন্য সাতটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এসব ট্রেন ভাড়া দিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আরো একটি ট্রেন ভাড়া দেয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার। তিনি জানান, চিলাহাটি রুটের বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ আছে। এই ট্রেনটি জনসভার জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে। রোববার সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনও বন্ধ। সেটিও ভাড়া দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে থাকা বেশ কিছু বগি এনে বিশেষ র্যাক করা হয়েছে। একদিন চলার পরই এই বগিগুলো মেরামতের জন্য আবার ওয়ার্কশপে পাঠাতে হবে। প্রায় ১৫ দিন আগে ট্রেন ভাড়া চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে অসীম কুমার তালুকদার জানান, এ পর্যন্ত মোট সাতটি ট্রেন ভাড়া দেয়া হয়েছে। যেসব গন্তব্যে ট্রেনগুলো চলবে তার প্রতিটি সিটের যাওয়া-আসার ভাড়া হিসাব করে টাকা নেয়া হয়েছে। আরো একটি ট্রেন ভাড়া দেয়া হতে পারে। এ পর্যন্ত ভাড়া দেয়া সাত ট্রেনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করতে পারবেন। জানা গেছে, রাজশাহী-নাটোর, রাজশাহী-জয়পুরহাট, রাজশাহী-সান্তাহার, রাজশাহী-ঢালানচর ও রাজশাহী-সিরাজগঞ্জ রুটে চলবে বিশেষ ট্রেনগুলো। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতারা জন্য পুরো ট্রেনই ভাড়া নিয়েছেন। বিশেষ ট্রেনগুলো চলার কারণে অন্য ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে মহাব্যবস্থাপক বলেন, এমনিতে জনদুর্ভোগ ও শিডিউলে কোনো সমস্যা হবে না। সেভাবেই ট্রেনগুলোর শিডিউল করা হয়েছে। কিন্তু যদি ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়, সে ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব করার নির্দেশনাও আসতে পারে। এ পর্যন্ত আমাদের সেভাবেই বলা হয়েছে।