রাজপথে নাগরিক সমাজের বিক্ষোভ মিছিল, সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ চুয়াডাঙ্গার দাবি

462

অ্যাড. শফির ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল চুয়াডাঙ্গা, অভিযুক্ত ৩ জনসহ কারাগারে ১৩ আসামি
বিশেষ প্রতিবেদক:
অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা শহর। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কোর্টে কর্মবিরতির মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। এ ছাড়াও বিশাল প্রতিবাদ মিছিলসহ সমাবেশ করেছে চুয়াডাঙ্গা নাগরিক সমাজ। এদিকে, স্বামীর ওপর হামলার ঘটনায় স্ত্রী সাহিদা খানমের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ৩ জনসহ ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ:
চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি), জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিশাল মিছিল ও জনসমাবেশ করেছে চুয়াডাঙ্গা নাগরিক সমাজ। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে এ প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ ও সিনিয়র সহসভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাসের নেতৃত্বে মিছিলটি শহরের কোর্ট মোড়-শহীদ হাসান চত্বর-প্রিন্সপ্লাজা ঘুরে বড় বাজার মুক্তমঞ্চে জনসমাবেশে মিলিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা শফিকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর পেটে ছুরি ও ধারালো অস্ত্রের কোপ দিয়ে নাড়ি-ভূড়ি বের করে ফেলে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। সেই সঙ্গে ঘাড়ে কোপ মেরে শিরা কেটে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে শফির শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই উন্নতির পথে।
নবাগত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশে আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমরা সুস্থ, সুন্দর আর শান্তিপূর্ণ চুয়াডাঙ্গা চাই। এটা কোনো সভ্য সমাজ হতে পারে না। যাদের হাতে দায়িত্ব, তারা যদি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়, তারা যদি একজন প্রবীণ আইনজীবী ও রাজনীতিককে রাস্তার মধ্যে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করার মতো করে আহত করে, তবে এখানে আর আইনের শাসন থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসহায় হয়ে পড়বে। কারা এই নগ্ন হামলার সঙ্গে জড়িত, কারা শফির ওপর হামলা করলো খুঁজে বের করুন, তাদের আইনের আওতায় আনুন। তা না হলে চুয়াডাঙ্গা নাগরিক সমাজ আরও কঠিন অবস্থানে যাবে। রক্তাত্ব জনপদের ইতিহাস অনেক আগে পার করে এসেছি। এখন শান্তিপূর্ণ চুয়াডাঙ্গায় বসবাসের নিশ্চয়তা চাই।’
জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. তসলিম উদ্দীন ফিরোজের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদিন খোকন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির, সদর থানা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন দুদু, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
মামলায় অভিযুক্ত ৩ জনসহ ১৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ:
অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সাহিদা খাতুনের দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় ৩ জন আসামি সর্দারপাড়ার শহিদ হোসেন লাড্ডুর ছেলে শারাফাত হোসেন টুটুল (২০), বেলগাছির ইলিয়াছ হোসেনের ছেলে মুনতাজ (২৭) ও দৌলাতদিয়াড়ের হাশেম আলীর ছেলে রেদওয়ান আহমেদ ওরফে রানাসহ (২১) ১৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সন্দিগ্ধ ১০ আসামিরা হলেন দিগড়ী ডোমচারার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুর রব (৩৫), দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার কাবার ছেলে ইমন (২০), লাল্টু হোসেনের ছেলে আকাশ (২০), মৃত শাহজাহান শেখের ছেলে মাসুম শেখ (২০), রেলপাড়ার মৃত জাহান বক্সের ছেলে জাহিদুল ইসলাম নাণ্টু (২৫), কলেজপাড়ার মৃত মহির উদ্দীনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে তুহিন (৪৯), হক পাড়ার মৃত রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে নাজিম উদ্দীন (৫০), মসজিদপাড়ার এমদাদুল হক ইদুর ছেলে রেজওয়ান আহমেদ (২৪), দামুড়হুদা মাদ্রাসাপাড়ার আবু বক্করের ছেলে মেহেদি (২০) ও চিৎলা প্রাইমারি স্কুলপাড়ার জাকির হোসেনের ছেলে শান্ত (২০)।
এ ছাড়াও এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন চুয়াডাঙ্গা মল্লিকপাড়ার তাল্লু মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান হিমেল মল্লিক (২৪), জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাহাবুল হোসেন (৩২), হকপাড়ার নাজিম উদ্দীনের ছেলে শাকিল আহমেদ জীম (২৩), মাঝেরপাড়ার ওহাব মিস্ত্রীর ছেলে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানিম হাসান তারেক (৩০), আলমডাঙ্গা খুদিয়াখালীর মৃত মতলেব হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (৩৮), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রুবাইত বিন আজাদ সুস্থির (২৫), হাসপাতালপাড়ার তুহিনের ছেলে রিমন (২০), ইমার্জেন্সি রোডের লতিফের ছেলে রাজু আহমেদ ওরফে কানা রাজু (২৭), কলোনিপাড়ার ওলিয়ার রহমানের ছেলে তানজিল আহমেদ বারেক (২৯) ও শান্তিপাড়ার ইউসুফের ছেলে এমদাদুল হক আকাশ (১৯)। এ ছাড়াও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত রোববার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন শফিকুল ইসলাম শফীর স্ত্রী সাহিদা খানম।