রমজানে কুরআন তেলাওয়াত কীভাবে করবেন?

21

ধর্ম প্রতিবেদন:
কুরআন নাজিলের মাস রমজান। এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়নে রয়েছে ফজিলত ও উপকারিতা। কুরআন তেলাওয়াত করতে প্রিয় নবির প্রতি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ হলো- ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রি জাগরণ করুন, কিছু অংশ ব্যতিত। অর্ধরাত কিংবা তার চেয়ে অল্প অথবা তার চেয়ে বেশি। আর কুরআন তেলাওয়াত করুন ধীরে ধীরে, সুস্পষ্ট এবং সুন্দরভাবে।’ (সুরা মুজাম্মিল : আয়াত ১-৪) সুতরাং কুরআন নাজিলের মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করা অন্য মাসের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়ার উপায়। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর প্রিয় বন্ধু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার এ নির্দেশনা মুসলিম উম্মাহর জন্যও প্রযোজ্য। আর এতে রয়েছে অনেক কল্যাণ। এ কারণেই হাদিসে পাকে কুরআন তেলাওয়াতকে ‘আফদালুল ইবাদাত বা সর্বোত্তম ইবাদত’ বলা হয়েছে।
রমজানে কুরআন তেলাওয়াত
কুরআনুল কারিম সময়ের ব্যবধানে প্রয়োজনের আলোকে অল্প অল্প করে দীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হলেও আল্লাহ তাআলা প্রতি রমজানে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পুরো কুরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। আবার প্রিয় নবিও প্রত্যেক রমজানে জিবরিল আলাইহিস সালামকে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন।
কুরআন তেলাওয়াতের সময় যা করতেন প্রিয় নবি
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন তেলাওয়াতের সময় আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কিত সব বিষয়ের ওপর আমল করতেন। হাদিসে পাকে সে বর্ণনা ওঠে এসেছে- হজরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রাতে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুরআন তেলাওয়াতের পদ্ধতির বর্ণনা দিয়ে বলেন- তিনি খুবই ধীরস্থিরভাবে কুরআন তেলাওয়াত করলেন; তেলাওয়াতে যখন তাসবিহ-এর আয়াত আসত তখন তিনি তাসবিহ আদায় করতেন। যখন কোনো নেয়ামতের বর্ণনা আসতো তখন তিনি নেয়ামত প্রার্থনা করতেন। যখন কোনো আজাবের আয়াত আসতো তখন তিনি আল্লাহর আজাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুমিন মুসলমান রোজাদারের উচিত, ধীরে ধীরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা। কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করা। কুরআন তেলাওয়াতের নির্দেশ বা হুকুম মেনে চলা খুবই জরুরি। তাতে কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াতের নির্দেশ ও হক উভয়টিই আদায় হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন নাজিলের মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করার তাওফিক দান করুন। কুরআনে উল্লেখিত দোয়া, তাসবিহ ও ক্ষমা প্রার্থনার আয়াতগুলো বুঝে বুঝে বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।