রঘুনাথপুরে স্বামীর পরকীয়া, স্ত্রী হাসপাতালে!

196
????

প্রতিবেদক, বারাদী:
স্বামীর পরকীয়ার জেরে সাইমা খাতুন (৩৭) নামের এক নারী হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। গত সোমবার সকাল দশটার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলাও হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে আমঝুপি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মাঝপাড়ার মুরাজেলের ছেলে শফিকুল ইসলাম পিরোজপুর ইউনিয়নের সিংহাটি গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে সাইমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে আছে দুটি মেয়ে। দীর্ঘ ২০ বছর সংসার জীবন পার করার পর শফিকুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী রাজনগর গ্রামের আওলাদের মেয়ে আমেনা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। আমেনা দিনমজুরের কাজ করেন, থাকেন রঘুনাথপুর গ্রামে। শফিকুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠলে তিনি কাপড়ের ব্যবসা করবেন বলে শফিকুলের কাছে টাকা চান। শফিকুল এ টাকা জোগাড় করতে তাঁর স্ত্রী সাইমা খাতুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। গত রোববার দিবাগত রাতে শফিকুল হত্যার উদ্দেশ্যে ঘুমন্ত সাইমার গলা চেপে ধরেন। এ সময় সাইমার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করেন। তখন সফিকুল তাঁকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করেন। এ সময় সাইমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর গত সোমবার সকাল দশটার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
কান্না জড়িত কণ্ঠে সাইমা খাতুন বলেন, ‘২০০৫ সালে আমঝুপিতে একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার স্বামীর একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সে পঙ্গু অবস্থায় দিনযাপন করছে। এরই মাঝে সে আমেনার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে টাকার জন্য সে আমাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করে। আমি অসহায় ও দরিদ্র। আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। এই ব্যাপারে আমি প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ ব্যাপারে মেহেরপুর সদর থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।