যৌতুক আইন কঠোরসহ সামাজিকভাবে বয়কট জরুরী

227

যৌতুকের জন্য বউয়ের উপর নির্যাতনের ঘটনা এদেশে নতুন কিছু নয়। শুধু নির্যাতন নয়, নির্যাতন করতে করতে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্য। এ জন্য ১৯৮০ সালে করা হয়েছিল যৌতুক নিরোধ আইন। এই আইনে যৌতুক চাইলে ও লেনদেন করলে শাস্তির বিধান থাকলেও যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য শাস্তির কথা বলা নেই। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে বা যতটুকু অপরাধ করছে, তার চেয়ে হালকা শাস্তি পাচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত সংশোধনীতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনকারীর শাস্তির বিধান, যাবজ্জীবন কারাদ- যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত খসড়ায় যৌতুক চেয়ে নির্যাতনের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধানে আরও বলা হয়েছে কেউ যদি এই আইনের অপপ্রয়োগ করে, তাহলে তাকেও সাজা ভোগ করতে হবে। যৌতুকের কারণে ২০১৫ সালে হত্যা করা হয়েছে ২০৩ জন নারীকে। নির্যাতিত হয়েছে ১৮৩ জন। ওই বছরই যে ৩৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছে, এরমধ্যে যৌতুকের বলিও আছে। ২০১৬ এর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী যৌতুকের জন্য হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৬ জন। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৩৪ জনকে। এগুলোর হিসাব আছে কাগজে-কলমে। হিসাবের বাইরে আছে আরও অনেক ঘটনা, যারা মামলা করে না, আইনের কাছে যায় না, সমাজের কাছে বিচার দেয় না। যৌতুক নিরোধ নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ২০টি আত্মহত্যার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেছে যে মূলত কী কী কারণে নারীরা আত্মহত্যা করেন। এরমধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে যৌতুক। আমাদের সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে যৌতুক নেয়াটা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যৌতুক না দিতে পারলে কন্যাকে, কন্যার পরিবারকে অত্যাচার করাটাও রেওয়াজ হয়ে গেছে। আমরা সামাজিকভাবে একে প্রতিরোধ করি না। বয়কট করি না যৌতুক নেয়া পরিবার ও মানুষকে। আর তাই কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের হাত ল¤॥^া হচ্ছে। আইন কঠোর করার পাশাপাশি এর বাস্তবায়নও কঠোর করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা সামাজিকভাবে বয়কট করতেই হবে যৌতুক নেয়া পরিবার ও সেই পরিবারের অসভ্য ছেলে সন্তানটিকে। মেয়েদেরও শেখাতে হবে যৌতুক দিয়ে বিয়েতে রাজি হওয়াটা শুধু তার জন্য অবমাননাকরই নয়, এটা একটা অপরাধও বটে।