চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১১ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘যেভাবেই হোক রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করেছি, তবে আমরা ভীতু’

চুয়াডাঙ্গার এ আর হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা, মেলেনি চিকিৎসকের পরিচয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু হলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে : সিভিল সার্জন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের ‘এ আর হাসপাতাল’ নামক প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতি লিপি খাতুনের মৃত্যুর দুই দিন পার হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বারবার খোঁজ নিতে গেলেও কোন ডাক্তার সিজারটি করেছিলেন, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি ক্লিনিকের কর্মীরা। যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এ আর হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফি উদ্দিনের সঙ্গেও। তবে প্রসূতি লিপি খাতুনের শরীরে অস্ত্রপচারের সময় ডা. রফি উদ্দিন নিজেই অ্যানেসথেসিয়া করেন এমনটিই জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী সোহেলী।

এ ঘটনা সম্পর্কে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে বিষয়টির তদন্ত করে দেখা হবে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি থাকলে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এদিকে, গতকাল শুক্রবার প্রতিবেদক পুনরায় সিজারের বিষয়ে জানতে এ আর হাপসাতালে যান। গতকাল সেখানে নার্সের দেখা পেলেও পূর্বের ন্যায় কোনো চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি।

এসময় প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এ আর হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফি উদ্দিনের স্ত্রী সোহেলীর সঙ্গে। তিনি তাঁদের হাসপাতালে প্রসূতি লিপি খাতুনের সিজার ও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে লিপি খাতুনের সিজার কোন ডাক্তার করেছেন, তা তিনি জানেন না বলেন। এসময় তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী ডা. রফি উদ্দিন লিপি খাতুনের সিজারের সময় অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন এবং ডা. রফি উদ্দিনই লিপি খাতুনের অ্যানেসথেসিয়া করেন।’

এক পর্যায়ে সোহেলী আরও বলেন, ‘আমরা যেভাবেই হোক রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করেছি। এ ঘটনায় আমরা একটু ভীতু রয়েছি।’ অবশেষে তিনি প্রতিবেদককে নতুন করে আর নিউজ না করার জন্যও বলেন।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে এ আর হাপসাতালে সিজারের পর এক প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। অপারেশনের পর প্রসূতির কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে, শরীরে খিঁচুনি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কিছু প্রসূতি মায়ের অবস্থা অনেক সময় খারাপও হয়ে থাকে বা তিনি পূর্বে থেকেই অসুস্থ হয়ে থাকেন। এ ধরণের কেসে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। এ আর হাপসাতালের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। তবে এটা জানা প্রয়োজন ওই প্রসূতির অপারেশনের সময় কোনো সার্জন বা অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট ছিলেন কি না? প্রসূতি অপারেশন থিয়েটারে সঠিক চিকিৎসা পেয়েছিলেন কি না, সেটিও ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘আমি একটি কাজের জন্য জেলার বাইরে ছিলাম। তবে এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে শুনিনি। আপনার মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি অপারেশেনের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতি মারা যান, তবে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।