চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৭ ডিসেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুবতীর সাথে কথা বলায় ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

৬০ হাজার টাকা গেল দুই ইউপি সদস্যের পেটে, যুবতী পেল ২০ হাজার
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ৭, ২০২২ ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

প্রতিবেদক, মুজিবনগর: মেহেরপুরের মুজিবনগরে আমবাগানে দাঁড়িয়ে কথা বলায় দুই যুবক-যুবতীকে আটক করে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যকে যুবকের পরিবারের সদসদের নিকট থেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার মুজিবনগর উপজেলা দারিয়াপুর ইউনিয়নের গৌরিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুধু জরিমানাতেই শেষ নয়, জরিমানার ৮০ হাজার টাকা ভাগাভাগির করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গৌরিনগর গ্রামের একটি আমবাগানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন মেহেরপুর শহরের নবাব নামের এক যুবক ও উপজেলার রতনপুর গ্রামের এক যুবতী। এসময় গ্রামবাসী তাদেরকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় বাগোয়ান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বল্লভপুর গ্রামের বাবুল মল্লিক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রকিব মেম্বারের নিকটে নিয়ে যায়। এসময় দুই ইউপি সদস্য গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে ওই যুবক ও যুবতীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে গ্রাম্য শালিসের সিদ্ধান্ত নেয়। শালিসে যুবক নবাবের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা দিতে বলে। দর কষাকষি শেষে যুবক নবাবের পরিবারের সদস্যরা নগদ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে শালিস থেকে মুক্তি পায়। এরপরে দুই ইউপি সদস্য ওই যুবতীর পরিবারের হাতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৬০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।
যুবক নবাবের অভিভাবক তার ভগ্নিপতি সজিব হোসেন বলেন, গ্রামের বাগানে দাঁড়িয়ে কথা বলার অপরাধে তাদেরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ইউপি সদস্য বাবুল মল্লিক ও রকিব মেম্বার। টাকা না দিলে তাদের দুজনের বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। উপায় না পেয়ে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে নবাবকে ছেড়ে দেয়। পরে জানতে পেরেছি ও যুবতীকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা শালিসের লোকজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী যুবতী বলেন, ‘নবাব আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় গ্রামের বাগানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছিলাম। এসময় গ্রামের লোকজন আমাদের ধরে গ্রামের মেম্বার বাবুল মল্লিক ও রকিবের নিকটে নিয়ে যায়। পরে তারা নবাবের পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করে নবাবকে ছেড়ে দেয়। ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করলেও আমাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে, বাকি টাকা তারা সালিশের বিচারকাজের জন্য ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ওখানে অমন হবে তা আমার জানা ছিল না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বাবুল মল্লিক বলেন, ‘যেহেতু আমার ইউনিয়নের মেয়ে এবং তাকে হস্তান্তরের জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। তাই আমি অসুস্থ অবস্থাতেয় ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমার সামনে কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি। আমি জানি না মেয়েটি কোনো টাকা পেয়েছে কি না? আমি অসুস্থ হওয়ায় ঘটনাস্থলের একটি বাড়িতে শুয়েছিলাম। আমার মাধ্যমে টাকা-পয়সা লেনদেন হয়নি, বিষয়টি মিথ্যা।’
মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, ‘বিষয়টি আমার অজানা। আর ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে এ ধরণের শালিস বিচার অবৈধ। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।