যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

339

দামুড়হুদার কাদিপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে
দর্শনা অফিস: দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তরিকুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কাদিপুর গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তরিকুল ইসলাম কাদিপুর গ্রামের গাঙপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তরিকুল পরিবারের সদস্যদের সাথে খাওয়া শেষ করে বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য বাড়ির পার্শবর্তী চায়ের দোকানে যায়। খেলা শেষ হওয়ার পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজনসহ তার বাবা খলিলুর বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করে। পরবর্তীতে তরিকুলের সন্ধান না পেয়ে বাবা ও পরিবারের সদস্যরা ফিরে আসে। পরদিন সকাল হলে পিতা খলিলুর আবোরো খুজতে বের হয় তার ছেলেকে। অবশেষে বাড়ির অদুরে কাদিপুর মরা গাঙের একটি ডোবাই তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তরিকুলের লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত থেকেই তরিকুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজির পর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ীর পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলে পাঠায়।
এ হত্যা কান্ডের বিষয়ে তরিকুলের মা আনোয়ারা খাতুন জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলে তরিকুলকে হত্যা করা হয়েছে। আজ থেকে ৫-৬ মাস আগে বাড়ির পাশের কয়েক জনের সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ হয়। এরই এক পর্যায়ে তারা আমাদের পরিবারের নামে মামলা করে। এর মীমাংশা বাবদ ১৫ হাজার টাকা নেই তারা। কিন্তু গত সপ্তাহে মামলা মিমাংসার দিন থাকায় সকালে আদালতে হাজির হয়। এরই এক পর্যায়ে বাদী মামলার মীমাংসা করবে না বিধায় কৌশলে আদালত থেকে পালিয়ে যায়। ফলে মামলাটি অমীমাংসীত অবস্থায় থাকে। আসামী তরিকুল ও তার পিতা বাড়িতে এসে বাদী পক্ষের কাছে এ ঘটনার কথা জানতে গেলে আবারও তর্ক সৃষ্টি হয়।
নিহত তরিকুলের বাবা খলিলুর জানায়, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের সকলকেই চিনে ফেলেছে এলাকাবাসী। তারা সবাই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে গা ডাকা দিয়েছে। এ ছাড়া গ্রামবাসী জানায় তরিকুল একটি সাদা মাটা ছেলে। তার নামে গ্রামের বেশ কয়েকজন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেছে। তবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত তরিকুলের পিতা খলিলুর দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের সাথে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। তারই সূত্র ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে রাখে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। এদিকে নিহত তরিকুলের লাশ ময়না তদন্ত শেষে নিজ গ্রাম কাদিপুর গ্যাঙ পাড়ায় আসলে তার লাশ দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। পরিবারের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। নিহত তরিকুলের ৪ব ছরের ছোট সন্তান শিমুলের কান্না দেখে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। বাদ এশা গ্রামের মসজিদের সামনে জানাযা শেষে একই গ্রামের কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।