চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৭ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দুই শর্ত

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে সুমাই ও মারিওপোল, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল : পুতিন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ৭, ২০২২ ২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানকে দু’টি শর্ত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। গতকাল রোববার দুই নেতার মধ্যে এক টেলিফোন আলাপে এই শর্ত দেন পুতিন। ক্রেমলিন সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর দাবি মেনে নিলে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করলেই কেবল রাশিয়া পিছু হটতে পারে। এ ছাড়া এই যুদ্ধ থামবে না।

রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনের স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা। এই আক্রমণ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান পুতিন। যদিও পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালাতে ব্যর্থ হয়েছে রুশ সেনারা। ক্রেমলিন জানায়, যুদ্ধ ঠেকাতে ইউক্রেনকে আরো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে বলেছেন ভøাদিমির পুতিন।

এরদোগানের কার্যালয় জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ থামাতে আলোচনায় রাশিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি চুক্তি করার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি। একই সাথে ইউক্রেনে ‘মানবিক করিডোর’ দেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন।

এর আগে শনিবার তুরস্কের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন জানান, মস্কো বা কিয়েভের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারে না তুরস্ক। তাই অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ থামাতে চায় ইস্তাম্বুল। এ জন্যই রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখিয়েছেন এরদোগান। যদিও এই যুদ্ধ এখনই থামছে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডোমিনিক রাব। তিনি বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ বছর না হলেও অন্তত কয়েক মাস ধরে চলবে।

রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ১১ দিন ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। এই যুদ্ধে দুই পক্ষের বহু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী ইউক্রেন ছেড়ে পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে ১৫ লাখ মানুষ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রথম থেকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়া এতে সাড়া দেয়নি। দুই দফা শান্তি আলোচনা হলেও আশানুরূপ ফল পায়নি কিয়েভ। এই যুদ্ধ থামাতে রোববার দু’টি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন।

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে সুমাই ও মারিওপোল: রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের সুমাই অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিওপোল মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। সুমাই অঞ্চলের উত্তরের আখতিরকা ও ত্রস্তিয়ানেতস শহরে বিদ্যুৎ নেই। মারাত্মক আকার ধারণ করেছে পানির সঙ্কট। অন্য দিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মারিওপোল দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার রুশ সেনা ও রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা। আর তাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান এই বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। ভারী হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে অনেক আগেই সেখানকার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি গত শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, মারিওপোলের বাসিন্দা ও সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য একটি মানবিক করিডোরের আহ্বান জানান শহরের মেয়র ভাদিম বোইচেঙ্কো। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্দর শহরটিকে অবরোধ করে রাখা হয়েছে। এটি রাশিয়ান সেনাদের চরম নির্মমতা। অত্যন্ত নির্মমভাবে তারা এখানে আক্রমণ চালিয়েছে। ভারী হামলা ও গোলাগুলির মধ্যে অনেক আগেই সেখানকার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবেতন জীবনযাপন করছেন মারিওপোলের বাসিন্দারা।

ইউক্রেনের বৃহত্তম বন্দরগুলোর মধ্যে একটি মারিওপোল। এ শহরটি আজভ সাগরের এমন এক জায়গায় অবস্থিত, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রাইমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ান বাহিনী এবং পূর্ব ইউক্রেনে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সেনাদের বিভক্ত করে রেখেছে। মস্কো এই শহরের দখল নিতে পারলে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেন ও ক্রাইমিয়ায় থাকা তাদের সেনাদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করতে পারবে।

মারিওপোলে নতুন করে যুদ্ধবিরতি: ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিওপোলে স্বল্প সময়ের নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সিটি কাউন্সিল। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতি থাকবে বলে জানানো হয়। নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরটির বেসামরিক নাগরিকরা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে নির্ধারিত পথ ধরে শহরটি ছাড়তে পারবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জেলেনস্কিকে নিয়ে প্রবাসী সরকারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের : রুশ সেনাদের হাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ পতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান এক কর্মকর্তা। ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে রাশিয়া সফল হলে করণীয় কী, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা নীরবে কাজ করছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ সেনাদের হাতে কিয়েভ পতনের আশঙ্কায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে ইউক্রেনে আমেরিকা ও মিত্রদের পাঠানো অস্ত্র বিদ্রোহের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে রাখছি।’ তিনি জানান, এসব পরিকল্পনার একটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে পোল্যান্ডে প্রবাসী সরকার গঠন। এর আগে শুক্রবার এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েনের সাথে দেখা করেছেন। ওই সময় রবার্ট যেকোনো দেশে সক্রিয় জেলেনস্কির সরকারকে সমর্থন দিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তাগিদ দেন।

সামরিক বিমান ঘাঁটিতে হামলা: ইউক্রেনের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে রাশিয়া। রোববার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে এমন দাবি করা হয়। রাশিয়ার দাবি, দূরপাল্লার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে চালানো এ হামলায় ইউক্রেনের স্টারোকোস্টিয়ানটিনিভ সামরিক বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রি করে দেয়া হয়েছে।

একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা : ইউক্রেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে একাধিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আরো কয়েকটিতে হামলার খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। টুইটারে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ওই হামলাগুলোতে একাধিক প্রাণহানি ও অনেকে আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনাগুলোতে বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চিকিৎসা নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

১১ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত: রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি রুশ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে ইউক্রেন। রোববার ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই দাবি করেছেন। এক দিন আগেই ইউক্রেন রুশ বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য হতাহতের দাবি করেছিল। তবে ইউক্রেনীয় সেনা হতাহতের সংখ্যা জানায়নি। অন্য দিকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৮৮ বিমান ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন রাশিয়ান পাইলটকেও আটক করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিওপোলে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রুশ সৈন্যদের সাথে লড়াই অব্যাহত রেখেছে।

২২ শতাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস : ইউক্রেনে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ২২ শতাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। কোনাশেনকভ বলেন, ‘ইউক্রেনে সর্বমোট দুই হাজার ২০৩টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ৭৬টি কমান্ড পোস্ট ও কমিউনিকেশন সেন্টার, ১১১টি এন্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম ও ৭১টি রাডার সিস্টেম, ৯৩টি যুদ্ধবিমান, ৭৭৮টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান, ৭৭টি মাল্টিপল রকেট লাঞ্চার, ২৭৯টি মর্টার, ৫৫৩টি বিশেষ সামরিক যান ও ৬২টি ড্রোন উল্লেখযোগ্য।’

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল: পুতিন

ইউক্রেনে আক্রমণের জেরে রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমা বিশ্ব আরোপ করেছে, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিচারে তা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন, ইউক্রেনের ওপর যদি কেউ ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার চেষ্টা করে, তারা নিজেদের সশস্ত্র সঙ্ঘাতে জড়াচ্ছে বলে তিনি ধরে নেবেন। রাশিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা কিংবা সামরিক আইন জারির সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। শনিবার মস্কোতে অ্যারোফ্লোট এয়ারলাইন্সের একটি ট্রেনিং সেন্টারে বিমানবালাদের এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এসব বলেন। নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মানে রেকর্ড পতন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকের সুদের হার দ্বিগুণ করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুতিনকে ঠেকাতে জনসনের ৬ দফা: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে পরাজিত করতে ছয় দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। একই সাথে ইউক্রেনে রাশিয়ার পরাজয় নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- বিশ্ব নেতাদের ইউক্রেনের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক মানবিক জোট’ গঠন করতে হবে। আত্মরক্ষার জন্যই তাদের (দেশগুলোর) উচিত ইউক্রেনকে সমর্থন করা। রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান কর্মকাণ্ডকে প্রতিরোধ করতে হবে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পথ অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে এবং সেটি হতে হবে কেবল ইউক্রেনের বৈধ সরকারের পূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমই। সামরিক জোট ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ আরো জোরদারের জন্য একটি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

বাইডেন-জেলেনস্কির ফোনালাপ: নিরাপত্তা ও সহায়তা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে আলাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, চলমান সঙ্কট নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে শনিবার ৩০ মিনিট ফোনালাপ হয়েছে। যদিও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত জানায় বাইডেন প্রশাসন। তবে জেলেনস্কি এক টুইট বার্তায় বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা এবং রাশিয়া ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ১৫ লাখ: ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। গত শনিবার জাতিসঙ্ঘ জানায়, ইউক্রেন থেকে ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আর রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেন, ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষের অর্ধেকই প্রতিবেশী পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটিতে ছয় লাখ ৫০ হাজার ইউক্রেনিয়ান আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদের মধ্যে দেড় লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে হাঙ্গেরিতে, বাকিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে।

রাশিয়ার ২১ শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, ৬ শতাধিক আটক: ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা সমর্থন করছেন না বহু রুশ। যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও চলছে। পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী ওভিডি-ইনফো জানিয়েছে, রাশিয়ার ২১টি শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ছয় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, কারাবন্দী নেতা আলেক্সি নাভালনি ইউক্রেনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য রুশদের প্রতি আহ্বান জানালে তারা রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোষ্ঠীটি আরো জানিয়েছে, সাইবেরিয়ার নোভোসিবিরস্ক শহরে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।