চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৯ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধের কারণে পণ্যবাজারে ধাক্কা আসছে; সঙ্কট মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ২৯, ২০২২ ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

করোনা মহামারীর পর রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বিশ্ব খাদ্যপণ্যের বাজারে জোড়া আঘাত হেনেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ‘রুটির ঝুড়ি’ নামে অবিহিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের খাদ্য উৎপাদন এলাকায় কৃষিকাজ বিঘ্নিত হয়েছে। গম ভুট্টাসহ দানাদার খাদ্য উৎপাদন ওই সব এলাকায় ব্যাপক কমেছে। এ ছাড়া এসব পণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ লাইন ভেঙে পড়েছে। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের উপর্যুপরি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এ সঙ্কটকে আরো জটিল করে তুলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির সহসা উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উভয়পক্ষ নিজস্ব অবস্থানে অটল। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক পণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশ্ববাসীর জন্য আরো খারাপ সময় আসছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এ যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো দেশে খাদ্য নিয়ে অনেক বেশি আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণ অব্যবস্থাপনা অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে আছে। এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক ব্যয় মেটাতে মুদ্রার ন্যূনতম মজুদও নেই। আমাদেরও এ লক্ষণ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দ্রুত কমছে। এ অবস্থায় প্রবাসী আয় প্রবাহ পতন হওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের পণ্যবাজারে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছা পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্তরে ব্যয় বেড়েছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এ প্রভাব ২০২৪ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে।
বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। করোনাকালে এ ধরনের একটি যুদ্ধ শুরু হতে পারে বিশ্ববাসীর কল্পনার মধ্যে ছিল না। করোনা নিয়েই আশঙ্কা করা হচ্ছে এর আরো কোনো ধরন ছড়িয়ে পড়তে পারে যা পরিস্থিতিকে আরো বেসামাল করে দিতে পারে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা অনেক বেড়েছে। চলতি ও আগত বছরে এর সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের এ আশঙ্কার মধ্যে আরো কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়া অসম্ভব নয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব পড়েছে বেশি। পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। ইতোমধ্যে রাশিয়া গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি ইউরোপীয় দেশগুলোতে সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে মানবিক সঙ্কটের দিকটি উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাব একেবারে তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়বে। অর্থাৎ অতি গরিবরা এর বড় ধরনের শিকার হবেন। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় তাদের সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তারা দুটো পণ্য কেনেন, একটা হচ্ছে খাদ্য অন্যটি জ্বালানি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আবার চক্রাকারে গিয়ে অন্য সব পণ্যের ওপর পড়ে। শেষ পর্যন্ত এটি খাদ্যপণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
জ্বালানি সরবরাহ বিঘিত হওয়ায় আপাতত এ যুদ্ধ ইউরোপের ওপর দাগ কাটছে। উন্নত এ মহাদেশ একটি নিরুপদ্রব জীবনযাপন নিশ্চিত করেছিল। সেটিও যে টেকসই নয়; এ যুদ্ধ সে শঙ্কার কথা বলে দিচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এটি ব্যবসায় ও সংসার চালানোর খরচ বাড়িয়ে দেবে, যা বিশ্ববাসীকে ভোগাবে বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোকে বেশি। ইতোমধ্যে এটি ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট ঘিরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির দীর্ঘ অবস্থাকে স্পর্শ করতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জ্বালানির উচ্চমূল্য থাকবে। চলতি বছরজুড়ে অপরিশোধিত তেল ১০০ ডলারে বিক্রি হবে। এটি সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি ঘটাবে। বাংলাদেশ একটি নিম্ন আয়ের দেশ। এর ওপর সরকার কোনো সমস্যাকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। অথচ সঙ্কট সমাধানে এটি প্রথমেই দরকার। আমরা মনে করি, সঙ্কটময় পরিস্থিতিকে সরকার গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করবে। আসন্ন দুরবস্থা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে।

Girl in a jacket
Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।