চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

যুদ্ধাপরাধ ম্যান্ডেট ভারমুক্ত আওয়ামী লীগ!

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৬ ১২:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

sdrfewr

সমীকরণ ডেস্ক: ভারমুক্ত হলো শাসকদল আওয়ামী লীগ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি ও দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পর এবার দলটির মূল অর্থদাতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসিও কার্যকর হওয়ায় কার্যত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি করছে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড। আবার আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং উগ্রপন্থীদের রক্তচক্ষু সত্ত্বেও ইস্যুটিতে বারবার সফল হওয়াতেও তুষ্ট দলটির শীর্ষ নেতারা। যদিও বিচারাধীন ও সন্দেহের তালিকায় থাকা সব যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইশতেহারে ‘অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ শিরোনামের ৫নং অনুচ্ছেদে ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা হবে’ বলে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয়, সুশাসনের ধারা অব্যাহত রাখা এবং জাতিকে অভিশাপমুক্ত করতে এই রায় কার্যকর করা হবে।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতার শেষদিকে এসে মাত্র একজনের (আবদুল কাদের মোল্লা) ফাঁসি দেয়া হয়। তবে ২০১৩ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ফের ইস্যুটিতে গুরুত্ব দিলে নতুন মাত্রা পায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি। যাতে বলা হয়, অসমাপ্ত থাকা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং শাস্তি কার্যকর করা হবে। মূলত ওই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতেই এক বছরের ব্যবধানে ৪ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। নেতাদের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পর শুরু হলেও স্বল্প সময়ে প্রধান রাজাকার-আল বদরদের ফাঁসি হওয়ায় অনেকটাই ভারমুক্ত আওয়ামী লীগ। বিচারের অপেক্ষায় থাকা বাকি ৯ জনের চূড়ান্ত রায় এবং অর্ধশতাধিক যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে চলা তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে ঘোষিত ম্যান্ডেটের পুরোপুরি বাস্তবায়ন ঘটবে তারা জানান।
শনিবারও রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। মীর কাসেমের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পায় না। কে হুমকি দিল, না দিল তাতে কিছু আসে যায় না। উচ্চ আদালত দ- দিয়েছে। রায় কার্যকর করাই ছিল আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। স্বাভাবিক সেটা সম্ভব হয়েছে, এটাই বড় কথা।
আর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতির কলঙ্ক মোচন হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নেতৃত্বের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকরের এই ধারা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্রের দাবি, দল-মতের ঊধর্্েব উঠে যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচার প্রক্রিয়া চললেও একাত্তরে দল হিসেবে জামায়াতই প্রধানভাবে দায়ী। তাই দলটিতে থাকা রাঘব-বোয়ালদের বিচারই মুখ্য ছিল। সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান আমিরসহ শীর্ষ ৫ নেতার সাজা কার্যকর হওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে। তবে রায়ের অপেক্ষায় থাকা আব্দুস সোবহান ও এটিএম আজহারের সাজা কার্যকর হলেই চূড়ান্ত বিজয় আসবে।
যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেষ যুদ্ধাপরাধীর রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চলবে। সূত্রটি জানায়, যুদ্ধাপরাধের মামলা চলমান প্রক্রিয়া। কারণ, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতরা জামায়াত ছাড়াও অনেক রাজনৈতিক দলে রয়েছে। যাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করতে হলে সময়ের প্রয়োজন। সরকার সেটাই করবে। তথ্য মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- ময়মনসিংহ সদরের ঢোলাদিয়ার আ. রহিম মাস্টার ও নিমতলার জামাল উদ্দিন এবং মুক্তাগাছা উপজেলা সদরের আব্দুস সালাম মুন্সী ও সুরুজ আলী ফকির।
জানা যায়, একাত্তরে অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত নতুনদের তথ্য অনুসন্ধান ছাড়াও এখনো চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া বাকি আছে শীর্ষ জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান, এটিএম আজহারুল ছাড়াও অনেক মানবতাবিরোধীর রায়। এর মধ্যে ট্র্যাইব্যুনাল গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করেন। একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হয় আরেক নেতা আব্দুস সোবহানকে। যদিও উভয়েই এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এছাড়াও ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন যুদ্ধাপরাধী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মুহম্মদ কায়সার, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজ, খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমৃত্যু দ-প্রাপ্ত পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আপিল বিভাগ আমৃত্যু কারাদণ্ডের যে রায় দিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আবেদনও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিদেশে পালিয়ে থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, আল বদর নেতা চৌধুরী মঈনউদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানসহ ৬ জন যুদ্ধাপরাধীকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম চলছে।
বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল- ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। ছয় নাম্বার ফাঁসি তথা মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে তার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্তির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে মত দেন তিনি। হানিফ বলেন, দেশের মানুষ বাকি যুদ্ধাপরাধীদের রায়ও এই সরকারের আমলে কার্যকর দেখতে চায়। ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগই সেটা করবে। সব যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর হলে জাতি যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত হবে মনে করেন তিনি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।