চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যীশুর সংযম, সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার শিক্ষা হোক সবার পাথেয়

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরেপুর ও ঝিনাইদহে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উদযাপিত
ডেস্ক রিপোর্ট: সার দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ ভুলে আহবান জানানো হয় ভালোবাসার মেলবন্ধনের। যীশুর সংযম, সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার শিক্ষা হোক সবার পাথেয়। বড় দিন প্রত্যেক মানুষকে শান্তি, প্রেম ও সম্প্রীতির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করুক। পৃথিবী থেকে দূর হোক হিংসা ও অশান্তি। এই শিক্ষায় বাহারি পোশাকে প্রভু যীশুর জন্মৎসবে কেক কেটে একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ভক্তরা। এই আনন্দ যেন সবচেয়ে বেশি শিশুদের। যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন বয়ে আনবে অনাবিল সুখ শান্তি আর সমৃদ্ধি। এমন প্রত্যাশা ধর্ম যাজক ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। রোববার রাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা এবং সোমবার সকালে থেকে বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়। গির্জার ভেতর করা হয় আলোকসজ্জায় সুসজ্জিত। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রিও। রাত ১২টা বাজতেই তারা কেক কেটে যীশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উদ্যাপন করে। পাশেই ছিল নানা রঙের বাতিতে সাজানো ক্রিসমাস ট্রি। এর আগে অবশ্য তাঁরা চার্চ থেকে প্রার্থনার কাজটি সেরে এসেছেন।
আমাদের দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদা উপজেলার পাঁচটি ক্যাথলিক গীর্জায় খ্রিষ্টান ধর্মালবম্বীদের প্রায় সাড়ে ৫শ’ পরিবার বড় দিন উপলক্ষে মেলা ও বড় দিনের কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ক্রাইষ্ট চার্চ এলাকায় মেলাসহ খ্রিষ্টান ধর্মালবম্বীরা বড় দিনের নানা কর্মসূচি গ্রহন করেন। এ বিষয় সুধিন সরকার ও সহকারী পাদদ্রী কৈশর মল্লিক জানান, রবিবার রাত ১২টা থেকে এসব চার্চে যিশুর জীবন বৃন্তান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। গতকাল সোমবার সকাল থেকে গীর্জায় গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা, খ্রিষ্টান ধর্মীয় গান, কীর্তন ও প্রভুর ভোজে উপাসনাসহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন ও পরম আনন্দে দিনটি উপভোগ করে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া কার্পাসডাঙ্গার ধর্মগুরু পাদদ্রী রেভার অনিল কুমার মর্ম উপজেলার সকল গীর্জায় ঘুরে ঘুরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী সকলের খোজ খরব নেন বলে রঞ্জন মন্ডল জানান। এ সকল আয়োজন আনন্দময় করতে কার্পাডাঙ্গায় মেলা বসে এবং খ্রীষ্টান ধর্মাল্বীদের বাড়িতে বাড়িতে গোশালা ও ক্রিসমাচ ট্রি সাজায়। এছাড়া গীর্জায় গীর্জায় এবং বাড়িতে, পথের ধারে ও বড় বড় স্থাপনায় আলোক সজ্জা করে আনন্দ উৎসব পালন করেন। বড় দিনের এসব কর্মসূচি নির্বিঘেœ পালন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ছিলো। পুলিশের পাশাপশি সাদা পোষাকে ডিএসবি ও গোয়েন্দা পুলিশ ছিলো চোখে পড়ার মত। এতে করে উপজেলার সকল গীর্জায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে বড় দিনের উৎসব পালিত হয়েছে।
মুজিবননগর অফিস জানিয়েছে: মেহেরপুর জেলার মুজিনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রোমান ক্যাথলিক চার্চ অব বাংলাদেশ, এজি মিশন চার্চ, প্রেস ব্রিডিয়াম চার্চসহ সকল চার্চের আওতাধীন আনুমানিক ৫ হাজার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস। ভবরপাড়া, বল্লভপুর, আনন্দবাস, রতনপুর, জয়পুর, নাজিরাকোনা, তারানগর, মানিকনগর গ্রামের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর এলেই মেতে ওঠে শুভ বড়দিন উৎসবে। এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও শুভ বড়দিন উৎসব পালিত হয়েছে। উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিলিপ মল্লিক জানান, মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গির্জাগুলোতে করা হয়েছে ব্যাপক আলোকসজ্জা। বড়দিনের দেখার মত সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হয়েছে বেহসতি আদলে তৈরি গোসালা ঘর। যেখানে ২’শ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলো যীশু খ্রিষ্ট। তাছাড়া মা মেরীর আবাসস্থলটি তৈরি করা হয়েছে পাথরের টুকরো দিয়ে। সাজানো হয়েছে নানা রঙে। ২৪ তারিখ রাত বারোটার সময় কেক কেটে যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালন করা হয়। এবারের উৎসবও আমরা নির্বিঘেœ পালন করা হয়। ভবরপাড়া মিশনের পুরোহিত অমিও মিস্ত্রি জানান, আজ রাত সাড়ে এগারোটায় উপাসনা করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ৮ টার সময় ভবরপাড়া সহ মোট ৫টি গির্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বড়দিন উৎসব পালনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
গাংনী অফিস জানিয়েছে: গতকাল ২৫ ডিসেম্বর সোমবার ছিলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড় দিন। এদিনটি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে। গাংনী উপজেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। গির্জা ও বাসভবনগুলোয় গতকাল সকাল থেকেই চলে প্রার্থনা। রঙিন বাতি ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। ঘরে ঘরে বানানো হয়েছে প্রতীকি গোশালা। গাংনী উপজেলার নিত্যানন্দপুর, পাকুড়িয়া ও জুগিন্দাসহ বিভিন্ন গ্রামের গির্জাগুলোতে ধর্মীয় উপাসনা পরিদর্শন করছেন মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন। অন্যদিকে খ্রিস্টানদের ধমীর্য় উপসনালয় গুলো পরিদর্শন শেষে নিত্যানন্দপুর গ্রামের প্রতিবছরের ন্যায় মেলা পরিদর্শন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক। এসময় সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন, ধানখোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, মটমুড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি, সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুস সালাম, জেলা পরিষদ সদস্য শানঘাটের উদিয়মান নেতা, ধানখোলা ইউপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শান্ত, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান পলাশ, চিৎলার ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম, ধানখোলার বশির আহম্মেদ, পাকুড়িয়ার আনুয়ার, রাইপুর ইউপির কড়–ইগাছি ইউপি সদস্য বকুল হোসেন, এলাঙ্গীর জাব্বার হোসেন, ধানখোলা ইউপির যুবলীগ নেতা মজিদ ও রাইপুর ইউপি যুবলীগ নেতা সমর বিশ্বাসসহ খ্রিস্টান ধর্মের অনেকে।
ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে: ঝিনাাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এ উপলক্ষে গতকাল সেমাবার গির্জাগুলোতে ভীড় করতে থাকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ। ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রভু যীশুর প্রার্থনা করা হয়। পরে কেক কেটে সবাই আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি খাবার বিনিময় করেন। ধর্মগুরুরা জানান, বড় দিন আমাদের জন্য যীশুর একটি আর্শিবাদ। এই দিনে আমরা দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।