যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঈদ উদযাপিত

315

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সোমবার দেশব্যাপী উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছেন। এদিন ধর্মপ্রাণ মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় দেশের সব ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশে ঈদের বৃহত্তম দুটি জামাত দিনাজপুর জেলা শহর ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার বৃহত্তম জামাত রুইথনপুর-চিৎলাহুদাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মেহেরপুরের বৃহত্তম জামাত কোনটি সে বিষয়ে জানা সম্ভব হয়নি। সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টার মধ্যে প্রায় সব জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে বেলা ১১টায় একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে প্রায় ঈদগাহ গুলোতে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এদিকে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহসহ চাঁদপুর, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার ও মুন্সীগঞ্জ জেলার শতাধিক গ্রামে গত রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।
এছাড়া ঈদের আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহাসড়কগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। ঈদকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা বা অঘটন খুব একটা কম নয়। ঈদে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনায়। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানী কিংবা প্রধান প্রধান নগরমুখী যানবাহনে সাধারণ সময়ের চেয়ে যে বেশি ভিড় থাকবে তা সহজেই অনুমেয়। কোথাও কোথাও যানজটের আশঙ্কাও থাকছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকারও হতে পারেন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা। আমরা আশা করব, যানবাহন চালকরা এ সময়ে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রে যেন কোন সমস্যা পোহাতে না হয়। সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার মতো কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা নির্বিঘœ করতে কর্তাব্যক্তিরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন আমরা এমনটিই সবার প্রত্যাশা।