যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মুজিনগর দিবস পালন: দলের নাম ভাঙিয়ে কোন অপকর্ম করা চলবে না : ওবায়দুল কাদের

284

মাসুদ রানা/শের খান: মুজিবনগরে দেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল। তাই ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশের মানুষের পালন করা উচিৎ। গতকাল রোববার ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, বিএনপি এখন নালিশী দলে পরিনত হয়েছে। তারা বিভিন্ন দেশে শুধু নালিশ করে বেড়ায়। ১৭ এপ্রিল যারা পালন করে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করে কি না আমার সন্দেহ আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যারা লালন করে, ১৭ এপ্রিল সরকার গঠনের চেতনাকেও তাদের লালন করতে হবে। যারা লালন করে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও প্রকারন্তে অস্বীকার করে। এটাই হচ্ছে আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা। তাদের আজ কোনো চেতনা নেই, মূল্যেবোধ নেই, সৌজন্যবোধ নেই। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এখন  শুধু ইস্যু তৈরি নিয়ে ব্যস্ত । বিএনপিকে এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলা হয়। নির্বাচনে নিজেরাই ভুল করে যায়নি। চোরাবালিতে আটকে গেছে। পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে জনগণের শুধু ঘৃণা পেয়েছে। একটার পর একটা ইস্যু তৈরি করা ছাড়া আর কাজ নেই। এখন সবশেষে ভারত জুজু। গেলরে গেল ইন্ডিয়া হয়ে গেলে। শেখ হাসিনা কেন গেলেন ইন্ডিয়া, কেন এত সম্মান। সর্বোচ্চ সম্মান। এটা তাদের গাত্রদাহ। তিস্তা তাদের অন্তরে নাই। সেখানে একটার পর একটা ইস্যু করা হয়। ইস্যু জনগণের কোন কাজে আসে না। ইস্যু মাঠে মারা যায়। বিএনপির এখন মরা গাঙ। জোয়ার আর আসে না। নেতা-কর্মিদের সতর্ক করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অপকর্ম করা চলবেনা । অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা । অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকারের অধিনেই নির্বাচন হবে। বিগত দিনে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে এবং সেই সরকারের আমলে মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। ১৯ সালের নির্বাচনও এই সরকারের অধীনেই হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। যে কোন মূল্য আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আবার সরকার গঠন করবো। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির নেতারা দাবি করেন তাদের দল মুক্তিযদ্ধের চেতনার দল। জিয়াউর রহমান কখনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। একাত্তর সালে যুদ্ধ চলছিল সেই সময় জুনের প্রথম দিকে পাকিস্তানের কর্নেল আসলাম জিয়াউর রহমানকে চিঠি লিখেছিল। চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, তোমার কর্মকান্ডে আমরা খুশি। তুমি তোমার কর্মকান্ড চালিয়ে যাও। এই চিঠিতেই প্রমান হয় জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। গতকাল মুজিবগর আ¤্রকাননের শেখ হাসিনা মঞ্চে অনুষ্ঠিত জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, নির্বাহী সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন, সদস্য পারভিন জামান কল্পনা, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক এম এ খালেক, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খুস্তার জামিল, সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, উপ প্রচার সম্পাদক শওকত আলী। মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহ্জ্ব গোলাম রসুল, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডু, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন প্রমূখ। এর আগে জাতীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা মুজিবনগর স্মৃতি সৌধে পৌঁছিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে নেতৃবৃন্দরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলন শেষে বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন, গার্লস ও বয়েজ স্কাউট সদস্যরা কুচকাওয়াজ পরিবেশন করেন । এ সময় অতিথিরা তাদের সালাম গ্রহন করেন। জনসভার আগে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পরিবেশনায়- হে তারুণ্য তুমি দাঁড়াও শীর্ষক উপস্থাপনা পরিবেশন করা হয়। অপর দিকে এদিন ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ  মুজিবনগর স্মৃতি সৌধে জতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসটির সূচনা করেন । দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুস্পমাল্য অর্পন, কুচকাওয়াজ প্রদর্শন, জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান-এর আয়োজন করা হয়।