ম্লান হতে পারে ঈদের খুশি

25

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত লকডাউন শিথিলতার সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গা ভাসিয়ে দিলে এই খুশির ঈদই কাল হতে পারে। তাই পশুর হাট ও মার্কেটসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার জন্য ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশকে দায়ী করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আমাদের দেশেও সংক্রমণ আর মৃত্যুহার বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ঈদ এসেছে। যেহেতু ঈদ একটি ধর্মীয় বিধান, এটি বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই উৎসব পালন করা উচিত। তা না হলে করোনা নিমিষেই সব উলটপালট করে দিতে পারে। ম্লান হয়ে যেতে পারে ঈদের খুশি। কেননা, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে পাঠানো তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় ২১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৮৩ জন। আক্রান্ত আর মৃতের এ সংখ্যা প্রতিদিনই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
লকডাউন শিথিলের এ সময় সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, এই সময়ে অতি জরুরি না হলে ঘর থেকে না বের হওয়াই ভালো। কেননা করোনা খুবই মারাত্মক একটা ভাইরাস। বিশ্বের কোনো দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগের কর্যকর কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। টিকা দেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই যতটা সম্ভব বাজার ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অহেতুক বাইরে গেলে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
লকডাউনের এই সময় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের পাশাপাশি সবাইকে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, করোনা থেকে মুক্তির এই দুই রক্ষাকবচ ছাড়া এই মুহূর্তে আর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সন্তোষজনক করোনা নিয়ন্ত্রণ হয়নি। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা চলে আসছে। ঈদের সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। তাছাড়া বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীদের বড় অর্থনৈতিক প্রবাহ জড়িত। এমনও অনেকেই আছেন, যারা সারা বছর বিনিয়োগ করে পশু পলন করেন এই ঈদে বিক্রি করার জন্য। তাই সব বিষয় চিন্তা করে সরকার লকডাউন শিথিল করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের পরও কিন্তু আবার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। দুই লকডাউনের এই ফাঁকা সময় সতর্ক না থাকলে ভয়াবহ বিপদ হতে পারে। মার্কেট ও গরুর হাটে মাস্ক পরিধান, হাত জীবাণুমুক্ত করাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লকডাউন শিথিলের এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে, আগামী শনিবার থেকে ঢাকায় বসছে কোরবানি পশুর অস্থায়ী হাট। আর এখনই বিভিন্ন স্থায়ী হাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানি পশুর বেচাকেনা জমে উঠেছে। এসব হাটে শারীরিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাই জনসমাগ এড়াতে কোরবানি পশুর হাটে না গিয়ে অনলাইনে গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছে করোনা বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি।
প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত ১ জুলাই থেকে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন দেয় সরকার। পরে এর মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়িয়ে ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গতকাল মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আরোপিত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। তবে এ সময়ে জনসাধারণকে সতর্কাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ কারার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঈদের পর ২৩টি শর্ত সংযুক্ত করে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।