চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুর কারাগারে দুর্নীতি ও বন্দি নির্যাতন মামলা জেলারসহ তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৯, ২০১৬ ২:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Meherpurpic-1

মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুর কারাগারে দূর্নীতি ও বন্দী নির্যাতন মামলায় জেলার আখতার হোসেন ও তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো: সানাউল্লাহ এ আদেশ দেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা ভুক্ত অন্য আসামীরা হলেন মেহেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী আল আমিন, কারারক্ষী সোলাইমান হোসেন ও মামুন হোসেন। এদের মধ্যে জেলার আখতার হোসেন বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ওএসডি হিসেবে কর্মরত আছেন। বাকিরা মেহেরপুর জেলা কারাগারে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, জেলার আখতার হোসেনসহ মামলার অন্য আসামীগণ বেতনভূক্ত সরকারী কর্মচারী হওয়ার পরেও পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বন্দীদের মাঝে নি¤œ মানের খাবার পরিবেশন, বন্দীদের ফাইল কাটা বাবদ ২৫০- ৫০০ টাকা নেয়া, কয়েদি বন্দীদের পাহারা ও ম্যাট বানানোর জন্য এক থেকে দুই হাজার টাকা নেয়া, বন্দী দেখা-সাক্ষাতের জন্য অফিস কল বাবদ বন্দী প্রতি ২৫০ থেকে ৫০০টাকা করে নেয়া, বাহির কারা ক্যান্টিনে বন্দিদের জন্য মালামালের ব্যাগ প্রতি ৫০ থেকে ১০০টাকা নেয়া, বাহির ক্যান্টিনের মালামাল বিক্রি হোক বা না হোক ক্যান্টিন ম্যানেজারের কাছে থেকে মাসিক ২২ হাজার টাকা আদায়, দর্শনার্থীদের কাছে ১০ টাকা করে আদায়, উকালতনামা স্বাক্ষর করতে ৫০ টাকা নেয়া, কারাগারের ভিতরের ক্যান্টিন থেকে বন্দীদের মালামাল কিনতে বাধ্য করা ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করাসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ২বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী শেখ শাহী প্রতিবাদ করলে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে জেলার আখতার হোসেন। নির্যাতনে শাহী গুরুতর জখম হলেও তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হস্তানান্তর করেন জেলার শেখ আখতার হোসেন। বর্তমানে শেখ শাহি পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় বন্দী শেখ শাহীর ভাই শেখ মনি গত ১৩ অক্টোবর মেহেরপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে জেলার আখতার হোসেনসহ চার জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামী হলেন মেহেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী আল আমিন, কারারক্ষী সোলাইমান হোসেন ও মামুন হোসেন। মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবী এহান উদ্দিন মনা জানান, বিজ্ঞ বিচারক মামলার নথি পর্যালোচনা, সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহন ও আসামীদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে সোমবার মামলার চার আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন। মামলার বাদি শেখ মনি জানান, বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে যেকোনো কারাগারে বন্দীদের তার ভাইয়ের নির্যাতিত হতে না হয় সেকারণে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।