চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুরে ২৬ দুস্থ পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ২৩, ২০২১ ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরুপ মুজিব জন্মশতবর্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৯ লাখ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে সেমিপাকা টিন শেড ঘর। সারা দেশে ৬৪ জেলার তৃণমূল পর্যায়ে তালিকা করে ছিন্নমূল ও দুস্থ পরিবারকে এ ধরণের বিশেষ ঘর দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২৩ জানুয়ারি ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। সমগ্র বাংলাদেশে একযোগে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর হস্তান্তর উদ্বোধন করবেন।
মেহেরপুর জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওয়াত ‘ক’ তালিকাভুক্ত প্রথম ধাপে ২৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে এই ঘর। যদিও ২৮টি ঘর হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু জমি সংক্রান্ত জটিলতায় গাংনীতে ২টি ঘর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগিরই এই সমস্যার অবসান হবে বলে জানান মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। মেহেরপুর সদরে ১৬টি, গাংনী উপজেলায় ৬টি ও মুজিবনগর উপজেলায় ৪টি।
‘আশ্রায়ণের অধিকার-শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানে মেহেরপুর জেলায় ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসন উপহার হিসেবে দেওয়া খাস জমিতে গৃহ নির্মাণের কাজ করছে মেহেরপুরের তিন উপজেলা প্রশাসন। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে গৃহ নির্মাণ করছে প্রশাসন। নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মেহেরপুর জেলায় ১২৩ জন ভূমিহীনদের তালিকা থেকে প্রথম ধাপে ২৬ জন ঘর পাবে আগামী ২৩ জানুয়ারি। এছাড়াও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নিজস্ব উদ্যোগে আরও কিছু ভূমিহীন পরিবার ঘর পাবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। এ সময় তিনি বলেন, মেহেরপুর জেলার তিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ঘর নির্মাণের কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রত্যেক ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত করে ওই জমির ওপর ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের বরাদ্দ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। পরে আরও পরিবহন খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। এই টাকায় তাদের জন্য ২০ ফুট বাই ২২ ফুট প্রস্থের ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী থেকে একটি করে টিউবওয়েল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরাঞ্জন চক্রবর্তী জানান, গাংনী উপজেলায় আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে ৬টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হবে। আরও দুটি ঘর জমি সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে। ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে ধানখোলায় ২টি, ষোলটাকায় ২টি, বামন্দীতে ১টি ও কাজীপুরে ৩টি। ইতোমধ্যে ৬টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি বাকি ২টির কাজ অল্প সময়ে শেষ হয়ে যাবে।
মুজিবনগর ও মেহেরপুর সদরের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, মেহেরপুর সদরে ১৬টি ও মুজিবনগর উপজেলায় ৪টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। মেহেরপুর সদরের মধ্যে আমঝুপি-খোকসায় ৮টি ও কুতুবপুর-গহরপুরে ৮টি ও মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুরের চারা বাগান পাড়ায় ৪টি।
মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৮টির কাজ চলমান আছে। আশা করছি খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবো। প্রত্যেক সুবিধাভোগীর নামে সরকারি ২ শতাংশ জমির বন্দোবস্ত দলিলসহ ঘরের চাবি আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।