মেহেরপুরে হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গমক্ষেত পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দল নতুন জাত উদ্ভাবন ছাড়া ব্লাস্ট রোগ নিমূল করা সম্ভব নয়

376

Meherpur wheat blast pic

গাংনী অফিস: মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গমক্ষেত পরিদর্শন করেছেন ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ দল। শনিবার সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তোফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল জেলার বিভিন্ন এলাকার গমক্ষেত পরিদর্শন শুরু করেন। গমক্ষেত পরিদর্শন শেষে বিশেষজ্ঞ দল বলেন, নতুন জাত উদ্ভাবন ছাড়া ব্লাস্ট রোগ নিমূল করা সম্ভব নয়। আক্রান্ত গম পুরিয়ে বা কেটে গরুকে খাইয়ে এ সংক্রামন ধ্বংষ করা যাবে না। কারণ ব্রাজিলে এ রোগ দেয়। সেখানে বৃষ্টি হলে গমক্ষেতে এ রোগ আক্রান্ত করে। কিন্তু যে বছর বৃষ্টি হয় না সেই বছরে গম ভালো হয়। এদিকে বাংলাদেশে তার সাথে কোন মিল নেই। যেমন এ বছর বৃষ্টি না হলেও বাংলাদেশের  মেহেরপুরসহ দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলাও আবারো দেখা দিয়েছে এ রোগ। তাই বিদেশী কারিগরি সহায়তা আমরা ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করার চেষ্টা করছি। নতুন জাত হাতে পেলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরিদর্শক দলের অন্যান্যরা হচ্ছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক নুরে আলম সিদ্দিকী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক নোমান ফারুক, সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র পল্লব ভট্টাচার্য, সাইদ হোসেন, শাবাব মেহবুব। পরিদর্শক দল হুইট ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গম ক্ষেতের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রফেসর তোফাজ্জল ইসলাম জানান, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহন করা হবে। কারিগরী সহায়তা দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের দ্য সেন্সবুরী ল্যাবরেটরীর প্রফেসর সোফিয়েন কামাউন এবং এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোলাস টেলবট। তিনি আরো জানান, বর্তমানে যে গম জাত ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো ব্লাস্ট সংক্রমিত হচ্ছে। এ জাতের বিকল্প হিসেবে জেনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধি নতুন জাতের গম উদ্ভাবনের চেষ্টা করা হবে। উল্লেখ্য, মেহেরপুরসহ দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের ৭ জেলায় গত বছরে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয় গম ক্ষেতে। চলতি বছরে কৃষি অফিস গম চাষে চাষিদের নিরুৎসাহিত করলেও কিছু চাষি গম চাষ করে। এবারও গমে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়।