মেহেরপুরে রাজাকার ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

336

vমেহেরপুর অফিস: রাজাকারদের বিচার এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহম্মেদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত সময় আমরা দেখেছি সরকার বদলের সাথে সাথে বেশ কিছু সংখ্যক অমুক্তিযোদ্ধা, চিহিৃত রাজাকার এবং ৭১ সালের অপ্রাপ্ত বয়স্করা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছে। ঐ সমস্ত চিহিৃত ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বে-ঈমানী করা হয়েছে। আমি জীবিত অবস্থায় রাজাকার মুক্ত মেহেরপুর দেখতে চাই, সেই সাথে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাতিল করতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহম্মেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান আর রাজাকারদের দেশের বে-ঈমান হিসাবে চিহিৃত করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মেহেরপুরের বেশ কিছু চিহিৃত রাজাকার এখন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় স্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি এসকল রাজাকার এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাতিল করার দাবী জানান। জেলা কমান্ডার বশির আহম্মেদ বলেন, মেহেরপুরের চিহিৃত রাজাকারদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছেন। বেঁচে থাকলে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হত। এদের মধ্যে ছিলেন সাবদার আলী মাষ্টার, অ্যাড. আব্দুল মতিন, অ্যাড. খালেদুজ্জামান, ঠিকাদার আওলাদ হোসেন, আক্তার খান, এলাহিদাদ ভিকু মিয়া, মাহতাব খান, সালাউদ্দিন খান, গাংনীর সামসুদ্দিন মাষ্টার, ডা. নিজাম উদ্দিন, মজিবর রহমান মাষ্টার। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক রাজাকার বেঁচে আছেন তাদেরও অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হতে পারে। তার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় রয়েছেন আব্দুল লতিফ মোল্লা, নুরুন্নবী বাবু (ফ্রিডম বাবু), মীর রওশন আলী মনা, আলাউদ্দিন খান উল্লেখ্য। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা সুবিধা নিচ্ছেন শেখ সাঈদ, আব্দুর রাজ্জাক, ইরফান আলীসহ আরো অনেকে। এসকল রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে তাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার দাবি জানান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সাংবাদিক সম্মেলনকারী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বশির আহম্মেদ-এর সাথে কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা সংসদের কেউ অংশ নেননি।