মৃত্যুকূপে মেসি-রোনালদোর বেঁচে থাকার লড়াই

530

স্পোর্টস ডেস্ক: ধাক্কা সামলে নকআউট পর্বে মেসির আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরানকে সামাল দিয়ে নকআউট পর্বে রোনালদোর পর্তুগালও। তবে মৃত্যুকূপে এবার মেসি-রোনালদোর অগ্নি পরীক্ষা। দ্বিতীয় সুযোগ আর পাবেন না তারা। হারলেই সর্বশেষ। নকআউট পর্বে আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অপর নকআউট ম্যাচে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের লড়াই দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে শুরুর দুই ম্যাচে মলিন দেখাচ্ছিল পাঁচবারের ব্যালন অর’ (বর্ষসেরা) পুরস্কার জয়ী লিওনেল মেসিকে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে হোঁচট খাওয়া ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন আর্জেন্টাইন এ মহাতারকা। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মেসিকে দেখায় আরো বিবর্ণ। তবে মোক্ষম সময়ে ঝলক দেখান মেসি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে বল পায়ে কারিকুরি শেষে অসাধারণ এক গোল আদায় করেন আর্জেন্টিনার এই ‘নাম্বার টেন’। ম্যাচ শেষে ২-১ গোলে জয় নিয়ে স্বস্তি ফেরে আর্জেন্টিনা শিবিরে।
আসরের শুরুতেই দর্শকরা দেখতে পান রোনালদোর ধামাকা। স্পেনের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে হ্যাটট্রিক নৈপুণ্য দেখান মেসির সমান পাঁচবারের ব্যালন ডি অর’ পুরস্কার জয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষ হয় ৩-৩ সমতায়। দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে অধিনায়ক রোনালদোর একমাত্র গোলে জয় দেখে পর্তুগাল। তবে তৃতীয় ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে খেলা শেষ করে রোনালদো অ্যান্ড কোং। আর ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট পর্তুগিজরা ছিল ইরানি তোপের মুখে। এ সময় ইরানিরা সুযোগ নষ্ট না করলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারতো পর্তুগাল। শেষ ষোলো রাউন্ডে রোনালরোদের অপেক্ষায় সুয়ারেজ-কাভানিরা। গ্রুপ পর্বে গোল নিয়ে টাটকা ফর্ম দেখাচ্ছেন বার্সেলোনা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ফরোয়ার্ড এডিনসন কাভানিও।
মস্কোর ব্রোনেৎসির সোরোনোজোস্কি স্কুল মাঠে অফিসিয়াল ট্রেনিং ছিল আর্জেন্টিনার। এক ঘণ্টার এই ট্রেনিং মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত ছিলো শুরুর ১৫ মিনিট। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার কৌশল কী হবে, কোনো পরিবর্তন আছে কিনা একাদশে? ১৫ মিনিটের ট্রেনিং দেখে এসব কিছু বোঝার উপায় ছিল না। তবে বিকালে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন এসব কিছুই পরিষ্কার করে দিলেন হোর্হে সাম্পাওলি। জানান ফ্রান্সকে নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। নাইজেরিয়া ম্যাচের একাদশই এই ম্যাচে থাকছে বলে জানান তিনি। ফ্রান্সের কোচ দেশমের ভাবনায় যে শুধু মেসি, সেটা পরিষ্কার বোঝা গেছে সংবাদ সম্মেলনে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় কাজান অ্যারেনা স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স। নকআউট পর্বের এই ম্যাচের জয়ী দল পর্তুগাল-উরুগুয়ে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে আগামী ৬ই জুলাই নিজনি নভগোরদে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে। চলতি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার চেয়ে পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে ফ্রান্স। ফরাসিরা যেখানে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই এসেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে, সেখানে অনেকটাই ভাগ্যের সহায়তায় শেষ ষোলোর টিকিট পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে নামার আগে বিশেষ পরিকল্পনার ছক আঁকছেন আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি।
এদিকে ফর্ম ও দলের অবস্থা বিচারে যে কেউই ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখবেন এ ম্যাচে। গ্রুপ পর্বে খুব একটা ভালো খেলতে না পারা আর্জেন্টিনাকে গুঁড়িয়ে দেয়ার সব সামর্থ্যই ফরাসি দলের আছে। আন্তোইন গ্রিজমান, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলে, পল পগবাদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্স যেকোনো বিচারেই আর্জেন্টিনার জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ। নিজ দলে এতো এতো তারকা থাকার পরও এক মেসিকে নিয়ে চিন্তিত ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ফিরে তার মুখে চলে আসছিলো মেসির প্রসঙ্গ। দেশম বলেন, ‘আসলে মেসি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার মতো ফুটবলার প্রতিপক্ষ দলে থাকলে তাকে নিয়ে তো আপনাকে আলাদা পরিকল্পনা সাজাতেই হবে। নইলে কি ম্যাচ জেতা যাবে?’ ১৯৯৮’র ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই অধিনায়ক মেসিকে নিয়ে কি পরিকল্পনা সাজালেন? ফ্রান্স সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে দেশম বলেন, সেটা বললে তো আপনাদের অনুশীলন দেখার সুযোগ দিতাম। রুদ্ধদ্বার অনুশীলনের প্রয়োজন হতো না’। গ্রুপ পর্বে দুই জয় এক ড্র নিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। তিন ম্যাচের একটিতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি গ্রিজমান। তাইতো গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গ্রিজম্যানের কাছ থেকে সেরাটা চাইছেন দেশম। শুধু গ্রিজম্যান না পুরো দলকে প্রমাণের একটা সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা। সুযোগ থাকার পরও নিজেদের মাঠে ইউরো জিততে পারেনি ফ্রান্স। পর্তুগালের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। এই কথাটিও নাকি অনুশীলনে বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। নকআউট পর্বে আর্জেন্টাইনরা ফ্রান্স বাধা টপকাতে পারলে, আর পর্তুগাল যদি উরুগুয়েকে হারাতে পারে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে সাক্ষাৎ হয়ে যাবে মেসি-রোনালদোর। যারা কিনা এখনো বিশ্বকাপে একে অপরের মোকাবেলা করেননি। এদিকে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ১১ বারের লড়াইয়ে মাত্র দু’টিতে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। হেরেছে ছয় ম্যাচে। ড্র হয়েছ দুটি ম্যাচ। বিশ্বকাপে দুইবারের সাক্ষাতে দু’টিতেই হেরেছে ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।