চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৬ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৬, ২০২২ ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বৈদেশিক মুদ্রা ডলারসহ অন্য দেশের মুদ্রাগুলোর দর বাড়ায় দেশের রিজার্ভ চাপ ও মূল্যস্ফীতির সংকট আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি করতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। এর ফলে দাম আরও কমে আসবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। এদিকে লোডশেডিংসহ সরকারের ব্যয় সংকোচন পদক্ষেপ রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে মনে করেন তারা।
জানা গেছে, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আর মূল্যস্ফীতি ‘গড় বা মাসিক’ যেকোনো হিসাবে অতীতের তুলনায় এর হার অনেক বেশি। রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতির সংকট এখন দৃশ্যমান। তবে রিজার্ভ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাণিজ্য ঘাটতি ২৩ বিলিয়নে ঠেকেছে। মোট ডলারের আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্যে যেখানে উদ্বৃত্ত থাকতো এখন আর তা নেই। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের মজুতে চাপ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক সংকট স্বল্পমেয়াদি নয়। এ সংকট মধ্যমেয়াদি হবে- এমনটি মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন- বাস্তবতা হচ্ছে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। অতীতের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবিকায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গড়ে প্রতি মাসে আমদানি ব্যয় হচ্ছে ৭৫০ কোটি ডলারের বেশি। ওই হিসাবে আগামী ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন ৫ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। বর্তমান রিজার্ভ আছে ৩ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারের উপরে। তা দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক নিরাপদ মান অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে ডলার সংকট প্রকট। আমদানি ব্যয় মিটাতে গিয়েই এখন রিজার্ভ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো নিয়মিত এলসি খুলতেও পারছে না। এই অবস্থায় রেমিট্যান্স বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে আমদানি বেড়েই যাচ্ছে। এটি কমানো কঠিন। বেশি কমানো হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।