মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত

459

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুমাতুল বিদা পালিত
ফেরদৌস ওয়াহিদ:
অনুতাপের অশ্রতে বুক ভাসিয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে গতকাল লাখ লাখ মুসল্লি মাহে রমজানের শেষ জুমা তথা জুমাতুল বিদা’র নামাজ আদায় করছেন। নাজাত এবং আল্লার রহমত কামনার পাশাপাশি নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়েছে। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। পালন করা হয়। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার প্রায় সব মসজিদেই ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ ও অধিক পুণ্যের আশায় মসজিদে হাজির হন। দুপুরে জুমার আজান হওয়ার পরপরই মসজিদে মসজিদে ছুটতে থাকেন তারা। প্রতিটি মসজিদে বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে ক্ষুদে শিশুসহ নানা বয়সী মুসল্লিদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। যারা বিলম্বে গেছেন তাদের অনেকেই নামাজ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত বসতেও পারেননি। ঠাঁই না হওয়ায় অনেককেই বাইরেই নামাজ আদায় করতে হয়। চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড় জামে মসজিদ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা জামে মসজিদ, নতুন বাজার জামে মসজিদ, জান্নাতুল মাওলা কবরস্থান জামে মসজিদ, রেলবাজার জামে মসজিদ, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল বায়তুল আকসা মসজিদ, চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেট জামে মসজিদ, সিনেমা হলপাড়া জামে মসজিদসহ জেলার উপজেলা পর্যায়ের মসজিদগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো।
জুমাতুল বিদার খুতবায় উচ্চারিত হয় ‘আলবিদা, আল বিদা, ইয়া শাহর রামাদান। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। জুমার দুই রাকাত নামাজ শেষে মোনাজাতে অংশ নিয়ে রোযাদার মুসলমানগণ নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে নিজদেরকে সঁপে দিয়ে চোখের পানি ফেলেছেন। এসময় তারা গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে কান্নাকাটি করেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনীতে এক হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যের অবতারণা হয়। মসজিদে মসজিদে গোটা দেশ ও জাতির সুখ, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জুমা শেষে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনা করেন মুসল্লিরা।
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ শুক্রবারে জুমার নামাজের পর বিশেষ ইবাদত করতেন। তার উম্মতরা এরই ধারাবাহিকতায় এ দিনে জুমার পর নফল নামাজ আদায় করেন ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন। ঈদের প্রকৃত খুশি ও পুরস্কার কেবল তারাই হাসিল করতে পারে যারা এক মাস ইমান ও আত্মজিজ্ঞাসার সঙ্গে রোজা রাখেন, তারাবিহ, ইফতারি, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল ইবাদত বন্দেগি করেন। মহান আল্লাহ ঈদের দিনে রোজাদারদের মাফ করে দেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, রমজান মাসের সর্বোত্তম বা উৎকৃষ্ট দিবস হলো জুমাতুল বিদা। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার অথবা শেষ জুমাবারের দিন জুমাতুল বিদা হিসেবে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। এ মাসের শেষ জুমার দিন পালিত হয় আল কুদস দিবস। তাই দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।