মুজিববর্ষ পালনের প্রস্তুতি সভায় প্রফেসর ডা. মাহববুব মেহেদী বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা

135

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহববুব হোসেন মেহেদী। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মোড়ের বনলতা ভবনে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি এ সভা করেন।
সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. মাহববুব হোসেন মেহেদী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী আমরা যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করব। এর মধ্য দিয়ে জাতির জীবনে নতুন জীবন শক্তি সঞ্চার করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে চলছি। এই বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধ পরিকর। মুজিববর্ষের শুরু থেকেই আমরা একটি পরিকল্পনা করেছি। পুরো বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এ সময় প্রফেসর ডা. মাহববুব হোসেন মেহেদী ঘোষণা দিয়ে বলেন, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিনে ১৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হবে। মানুষকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐত্যিহাসিক ভাষণের দিন, যেটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিভিন্ন স্থানে শোনানো হবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া, মিলাদ মাহফিল করা হবে, ২৬ মার্চ মুজিববর্ষের আবহে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হবে। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে চুয়াডাঙ্গায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ মে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জুলিও কুরি পদকপ্রাপ্তি দিবস উদ্যাপন করা হবে, ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করা হবে।
২৩ জুন প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন করব। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিনে কেক কাটা, দোয়া মাহফিল ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হবে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে অসহায় মানুষের সেবা দেওয়া হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্যবিষয়ক আলোচনা সভা করা হবে। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করা হবে। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করা হবে। ১৬ ডিসেম্বর সম্মানের সাথে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করা হবে। এ ছাড়া পুরো বছরজুড়ে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। আমি বিশ্বাস করি, মুজিববর্ষ পালনের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে একধাপ এগিয়ে যাওয়া হবে। যেখানে জনমানুষের সত্যিকারের মুক্তি ঘটবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান, জেলা কৃষক লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।