চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৮ এপ্রিল ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুজিবনগর সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের জনসভায় আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হোসেন আমু
মুজিবনগর অফিস:
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকার যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করেছিল, সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশের সব অর্জন হয়েছে এবং হচ্ছে। মুজিবনগরে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে যে সরকার গঠন করা হয়েছিল সেই সরকারের নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। এ দেশের যা কিছু অর্জন তার সবকিছুই এসেছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তাছাড়া কারও কোনও অর্জন নেই।’
গতকাল বুধবার মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবসের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘মুসলিম লীগ যেমন তাদের কার্যক্রমের কারনে বিলিন হয়ে গেছে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি বিএনপিও তার দেশ বিরোধী কার্যক্রমের কারণে বিলিন হয়ে যাবে। তাদের অস্থিত্বও কেউ খুঁজে পাবে না। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছিল। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্রিশ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিলেন। এতিমের টাকা মেরে তিনি আজ জেল খাটছেন আর তার ছেলে তারেক রহমান দেশের টাকা মেরে বিদেশে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছে।’ তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠাতা করেছে জিয়াউর রহমান।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস যারা পালন করে না তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে না। ওই বিএনপি ও তাদের দোসররা কখনো মুজিবনগর দিবস পালন করেনা। কারণ তারা স্বাধীনতার শত্রু। স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করায় এদেশের জনগন জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচার করবে সেদিন বেশি দেরি নেই।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘খুনি মোশতাক পরবর্তীকালে এই মুজিবনগরে বসে স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য পাকিস্থানের সঙ্গে লুজ কনফেডারেশন গঠন করে পাকিস্থানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলো। তার দোসর ছিল জিয়াউর রহমান। এ সরকারের আমলেই তাদের মরনোত্তর বিচার করা হবে।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের এমপি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের কারণেই দল-মত নির্বিশেষে সবাই এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আরও এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।’
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনায় তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা, অব্যাহত অর্থনৈতিক অগ্রগতি ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি রাষ্ট্রের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব। বিশ্ব মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৭ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও সম্মানে ভুষিত হয়েছেন।’
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. আমিরুল ইসলাম, অ্যাড. রেজাউল করিম জোয়ার্দার, পারভিন জামান কল্পন, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগর, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ. খালেক, মেহেরপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন। মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এরআগে মুজিবনগর স্মুতিসৌধে সূর্যোদযের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ স্থলে আসেন এবং জাতীর শ্রেষ্ঠ চার সন্তানের স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় প্রধান অতিথি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, পুলিশ, বিজিবি, আনছার সদস্যসহ বিএনসিসি, গার্লস গাইড গার্ড অব অনার প্রদান করে। কুচকাওয়াজের পরপরই আনসার ও ভিডিপি অধিদফতর দিবসটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ শিরোনামের গীতিনাট্য উপস্থাপন করে। সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে শেখ হাসিনা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে সংগীতানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় আয়োজন।
প্রসঙ্গত, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।