মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ৯ বছরে বিদ্যুৎ বিল বাকি ৫৪ লাখ টাকা!

73

মেহেরপুর, প্রতিবেদক:
মুজিবনগর অডিটরিয়ামটি ৯ বছরে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৪ দিন। ভবনটি ব্যবহার না হওয়ার পরও এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। মুজিবনগর কমপ্লেক্সের অপর তিনটি ভবনের কাছে কয়েকবছর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোনো মন্ত্রণালয় ভবন বুঝে না নেওয়ার কারণে কোনো মন্ত্রণালয়ই দায়িত্ব নিচ্ছে না বিল পরিশোধের। এতে বিপাকে পড়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনাতে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না। গণপূর্ত বিভাগ মুজিবনগর কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভবনের বিদ্যুৎ বিল প্রদান বন্ধ করে দেওয়াতে পল্লী বিদ্যুতের বিল বকেয়া পড়েছে ৫৪ লাখ টাকা।
মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণের কারণে দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন মুজিবনগরকে মূল্যায়নের। নির্দেশ পরবর্তী শত কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে নানা অবকাঠামো উন্নয়নসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি, মানচিত্র ও জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও এখানে কিছু বহুতল আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ২০ বছর আগে। যেমন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পর্যটন মোটেল ও শপিংমল, সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে শিশু পল্লী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মসজিদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পোস্ট অফিস ও টেলিফোন অফিস, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও হেলিপ্যাড এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৬ দফা ভিত্তিক গোলাপ বাগান নির্মাণ করা হয়েছে। টেলিফোন একচেঞ্জ, মসজিদ ও শিশু পল্লী ছাড়া এর কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু না হওয়ায় অব্যবহৃত অবস্থায় অযত্নে পড়ে আছে সবকিছু। এরমধ্যে মুজিবনগর অডিটরিয়াম ভবনের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯২ টাকা ও মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে ১২ লাখ ৮ হাজার ২৮২ টাকা। মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের রাস্তার বাতিতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে ৯৭ হাজার ৮৭৭ টাকা। মুজিবনগর মসজিদ কমপ্লেক্সের কাছে বকেয়া পড়েছে ৪৩ হাজার ২৮১ টাকা এবং মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সে বকেয়া রয়েছে ১৪ হাজার ৩৩০ টাকা।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ জানান, ৫টি ভবনে বকেয়া পড়েছে ৫৪ লাখ টাকা। স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে সংযোগও বিচ্ছিন্ন করতে পারছি না। আগে গণপূর্ত বিভাগ বিল পরিশোধ করত। ৫ বছর ধরে আর পরিশোধ করছে না। জেলা প্রশাসনের সভায় বকেয়া বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো মন্ত্রণালয়ই দায়িত্ব নিচ্ছে না।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার সত্যতা জানিয়ে বলেছেন, ভবনগুলো স্ব স্ব মন্ত্রণালয়কে বুঝে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। অতিসত্বর বিষয়টি সমাধান হবে।