চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৮ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুজিবনগরে মাদরাসার দপ্তরি কাদেরের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৮, ২০১৭ ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে উপজেলার মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার দপ্তরি আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দপ্তরি আব্দুল কাদেরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে ছাত্রীর পরিবার ও এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ছাত্রীর পিতা গত ২৫ শে আগষ্ট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বরাবর দপ্তরি আব্দুল কাদেরের ঘৃনিত কাজের জন্য তার বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগ পত্রে ছাত্রীর পিতা জানান, আমার মেয়ে আখিঁ খাতুন (ছদ্দনাম) মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী। গত ১৮ আগস্ট মানিকনগর গ্রামের বাসিন্দা মানিকনগর ডিএস আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার দপ্তরি আব্দুল কাদের আমার মেয়েকে উপবৃত্তির ফরমে কিছু স্বাক্ষর বাকী আছে সেটা সম্পূর্ন করাতে হবে বলে পরের দিন সকাল সকাল স্কুলে আসতে বলে। দপ্তরির কথা শুনে আমার মেয়ে পরের দিন ১৯ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে স্কুলে আসে এবং তার নিজ রুমে যেয়ে ঘর ঝাড়ু দিতে থাকে।  এমন সময় দপ্তরি ক্লাস রুমে ঢুকে আমার মেয়েকে একা পাওয়ায় কাছে যেয়ে তার হাতে হাত দিতে থাকে। তখন সে দপ্তরিকে বলে আংকেল আপনি ক্লাস থেকে সরে যান। এ কথা বলার পর পরই দপ্তরি আমার মেয়েকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ছাত্রীর পিতা বলেন মানুষের সাথে পরামর্শ করে অভিযোগ দিতে আমার কিছুদিন দেরি হয়েছে।
এবিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসান মোল্লা জানান, আমরা একটা অভিযোগ পত্র পেয়েছি গতকাল আলোচনা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে তিনি কিছু পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন। সে মোতাবেক আমরা সোমবার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও গ্রামের কিছু গন্যমান্য লোক নিয়ে বসে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করব।
মাদরাসার অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলী জানান, ছাত্রীর পিতা আমার মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে সোমবার সকাল ১১টার সময় আবার আমরা আলোচনায় বসব এবং তদন্ত করে যদি আব্দুল কাদের দোষী সাব্যস্ত হয় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত দপ্তরি আব্দুল কাদের জানান, অভিযোগ পত্রে যেসব বিষয় লিখেছে এসব কিছু সাজানো। এ ধরনের কিছুই আমি করিনি। আমি গত ২৮বছর ধরে এই মাদরাসায় পিয়নের কাজ করছি কোনদিন কেউ আমাকে খারাপ বলতে পারেনি। তাছাড়া এটা আমার নিজের গ্রাম, আমার নিজের প্রতিষ্ঠান। তবে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও তার মেয়ে এবং জামায়ের কিছু অনৈতিক কাজ বাধা দেওয়া ও প্রতিবাদ করার কারনে আমাকে মাদ্রাসা থেকে সরানোর জন্য মেয়ের পিতাকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
তবে একথা ঠিক যে অভিযোগকারী ছাত্রীর হাতে আমি হাত দিয়েছিলাম কারন সে আমার বন্ধুর মেয়ে এবং সে সুন্দর করে ঘর পরিস্কার করেছিল বলে এবং তাকে বলেছিলাম যে তুমি যে ঘর পরিস্কার করেছ এবং আমি যে তোমাকে তার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছি এ কথা কাউকে বলনা। তাহলে সবাই আমাকে খারাপ ভাববে। কারন আমার কাজ তুমি করেছ। কিন্তু সে বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মেয়ে শিক্ষিকা সামসুন নাহারকে বললে, সে এবং অধ্যক্ষ মিলে আমার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করেছে। আমি সম্পর্ণ নির্দোষ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।