মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকার

505

চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ঝিনাইদহসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালন : বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ
ডেস্ক রিপোর্ট: সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতার রঙিন উৎসবে বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে বীর শহীদদের। যাদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন মাতৃভূমি। স্বাধীনতার বার্ষিকীতে গতকাল সোমবার দিনভর দেশজুড়ে ছিল নানা আয়োজন। প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। দুপুরের পর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। দিনভর সেখানে ঢল ছিল নানা বয়সী মানুষের। সকালে সারাদেশে একযোগে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়গুলোতে হয়েছে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর কুচকাওয়াজ প্রর্দশনী। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন বিষয়টিকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন হয়। ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণিল আয়োজন করা হয়।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সারাদেশের ন্যায় একযোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় আর নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎযাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চত্বরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভসূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে শহীদ হাসান চত্ত্বর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর পরই শহীদ হাসান চত্বর শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তর্পক অর্পণ শুরু হয়। প্রথম প্রহরে সকাল ৬টার কিছুক্ষণ পর জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করে শহীদ বেদি উন্মুক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. জসীম উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ ফারুক আহম্মেদসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এরপর চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম’র নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করে জেলা পুলিশ বিভাগ। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার্স) আহসান হাবীব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন’র নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগর নেতৃবৃন্দ বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অপর্ণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, এড. মুহা. শামসুজ্জোহা। জেলা পরিষদের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরজাহান খানমের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পৌরসভার পক্ষে প্যানেল মেয়র একরামুল হক মুক্তাসহ কাউন্সিলরবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করতে আসেন। সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারীর নেতৃত্বে, জেলা বিএনপির পক্ষে পৃথক পৃথক ভাবে আহ্বায়ক মুহা. অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলার নেতৃত্বে ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়। এ ছাড়াও জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, ব্যাংক-বীমা, স্বায়ত্ব শাষিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ’র ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করে।
এছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে (পুরাতন) সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত উচ্চারণের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং পরে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএমকে সাথে নিয়ে শান্তির প্রতীক শ্বেতকপোত অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর চারজন পাইলট ক্যাডেটের গার্ড অব অনারের মাধ্যমে এবং প্যারেড কমান্ডার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের আরআই আহাদ আলী চৌকস প্রহরায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
পরে মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে ছিলো বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়স্কাউটস, গার্লসগাইড, শিশুপরিবার, মুকুলফৌজ ও হলদে পাখির দল, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল এবং সংগঠন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক স্টেডিয়ামে আগত ও জেলার সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখি, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রাণবন্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো নিপীড়িত-নির্যাতিত জর্জরিত মানুষের এ দেশটি যেন ¯েœহ-প্রেম প্রীতির আবহে পূর্ণ হয়ে সুস্থ মানবতার আবাসভূমি হয়ে উঠতে পারে এবং সেই পরিবেশে বেড়ে ওঠে নতুন প্রজন্ম যেন পরিপূর্ণতার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বিশ্বময় বিশ্বমানবতার জয়গানে মুখর হয়ে উঠতে পারে। ডিজটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ যেন মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়। এ সময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আমুল পরিবর্তনের কথা, জেলার ভিক্ষুক পুর্নবাসন, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল, বৃক্ষ রোপনে রেকর্ড, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি ও জেলার সাধিত উন্নয়নের হালচিত্র বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠান মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমাম হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. জসীম উদ্দীন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরজাহান খানম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, প্রফেসর এসএম ই¯্রাফিল, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ প্রমূখ।
কুচকাওয়াজে ক বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করেছে সরকারি শিশু সদন, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে যুবা রেডক্রিসেন্ট ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। খ বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করেছে সরকারি শিশু পরিবার, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে কাবদল (বালক) রেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩য় স্থান অধিকার করে কাবদল (বালিকা) রেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করেছে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, ২য় স্থান অধিকার করেছে বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেন ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে প্রদিপণ বিদ্যাপিঠ। শরীরচর্চা প্রদর্শনীতে ক বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করে সরকারি শিশু পরিবার, ২য় স্থান অধিকার করেছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৩য় স্থান অধিকার করেছে সংলাপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। খ বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করেছে প্রদিপণ বিদ্যাপিঠ, ২য় স্থান অধিকার করেছে ফুঁলকুড়ি শিশু বিদ্যালয় ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে কাবদল (ছাত্র) রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দলগুলোর জন্য প্রচ- গরমে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। শরীরচর্চা প্রদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ৬ বিজিবি অধিনায়ক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সান্ত¡না পুরস্কার ও ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারীদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সুচিত্র রঞ্জন দাস। সমগ্র অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নুঝাত পারভীন, সাহেদ হাসান হালিম ও খুশি।
ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি: গতকাল ২৬ মার্চ সোমবার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র নিজস্ব ক্যাম্পাসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎযাপন করা হয়েছে। সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইউনিভার্সিটির ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মোত্তালিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইমরোজ মুহাম্মদ শোয়েব, সহকারী রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দারসহ, সকল শিক্ষক, স্ব-স্ব বিভাগীয় ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মোত্তালিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, আলোচক হিসেবে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক ও আলী আজগর ফটিক। আরও আলোচনা করেন অত্র ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইমরোজ মুহাম্মদ শোয়েব, অর্থ পরিচালক জনাব আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মহবুব আলম, কৃষি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাহিদ পারভেজ রাজা সহ অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, প্রফেসর আবদুল মোত্তালিব, নুরুল ইসলাম মালিক ও আলী আজগর ফটিক কে ক্রেস্ট ও উত্তোরিয় প্রদান করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ইউনিভার্সিটিতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে “বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার রূপকার” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের মঙ্গলকামনা করে দোয়া করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের দিনভর অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইউনিভার্সিটির সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার শান্ত।
জেলা শিশু একাডেমিতে প্রতিযোগিতা: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল ১০টায় জেলা শিশু একাডেমি প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা ফেরদৌসীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহা. জসীম উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার টুকটুক তালুকদার, পাপিয়া আক্তার, চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান, সিব্বির আহমেদ, ¯িœগ্ধা দাস।
মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা গুলশান পাড়াস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে মঞ্চ থেকে নেমে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা ইউনিট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ ফারুক আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মেজর (অবঃ) খোন্দকার সাইদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করেন হাফেজ মো. সারোয়ার, শ্রীমদ্ভাগবদ গীতা থেকে পাঠ করেন বাবু সুনিল মল্লিক ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ডা.মিল্টন রয়।
অনুষ্ঠানে দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আব্দুল আজিজ ও কে.এম জোহাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এসময় ১৭জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়।
প্রীতি ফুটবল ম্যাচ: বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়াম মাঠে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন বনাম মুক্তিযোদ্ধা একাদশ, প্রাক্তন খেলোয়াড় বনাম বর্তমান খেলোয়াড়, পৌরসভা একাদশ বনাম সাংবাদিকবৃন্দ একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন একাদশের অধিনায়ক ছিলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ, সহঅধিনায়ক ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং পৌরসভা একাদশের অধিনায়ক ছিলেন মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু। খেলাগুলো পরিচালনা করেন সাবেক জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন মধু। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়কে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ পর্বের শুরুতে গত ২৪ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন দৌড়ে বিজয়ী ৬ প্রতিযোগীকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
বিকাল ৩টায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মঞ্চে মহিলাদের আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক পতœী কামরুন্নাহার আকন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরজ্জাহান খানম, জাতীয় মহিলা সংস্থা জেলা শাখার চেয়ারম্যান নাবিলা রুখসানা ছন্দা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নারী সংগঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মী নুঝাত পারভীন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’র উপর আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত নানা শ্রেণী পেশার মহিলারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ), চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে শোভাযাত্রা ও পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা.হারুন অর রশিদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ডা. রবিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. রোকনুজ্জামান, সহ-সভাপতি ডা.শফিকুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা.নাজমুল হক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তোফাজ্জেল হোসেন, সদস্য ডা. রুহিনা সানজিদ আরা, ডা. আশরাফুল হক শিমুল, ডা. আনিসুর রহমান, ডা. কাজল, ডা. জনি, ডা. রহমান, ডা. হাবিব, ডা. সুরাইয়া, ডা. বর্ষা, ডা. আমেনা, ডা. রতনা, ডা. রিমা প্রমুখ। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম, বিএমএ’র সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী এবং বিডিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আক্তারুজ্জামান জোয়ার্দ্দার।
এদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের কেদারগঞ্জস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ৬টার সময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলোনসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে সকাল ৭টার সময় শহীত হাসান চত্বর স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদীতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, জেলা যুবলীগ নেতা ইমরান শেখ, খাইরুল, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক যুগ্ম আহব্বায়ক মাফিজুর রহমান মাফি, দপ্তর সম্পাদক সেক সামী তাপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ইমদাদুল হক সজলসহ জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা ও কর্মীরা।
অপরদিকে, গতকাল সোমবার সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালি, শোভাযাত্রা শেষে বড় বাজারস্থ শহীদ হাসান চত্বর স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধঞ্জলি প্রদান করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক শাখার ব্যবস্থাপক মো.সামসুল আলম (এজিএম)’র নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সভপতি মো. আলাউদ্দীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোল্লা ইমদাদুল হক, কার্যকারী সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক সিজন রায়সহ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যেগে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। প্রত্যুষে পৌরসভার সকল সড়ক ও প্রধান সড়ক জাতীয় পতাক দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সূর্যোদ্বয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এর পরপরই সকল সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়িত্বশাসিত, বেসরকারী ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। এরপর বধ্যভূমিতে মুক্তিযোদ্ধা মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে সারাদেশে এক সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান ও থানা অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান।
সকাল সাড়ে ১০টায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বেলা ১২টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা মঞ্চে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সীমা শারমিন, থানা অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. আব্দুর রশিদ মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সাহাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭০’র অগ্নিসেনা মঈন উদ্দিন, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খো. শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবু তালেবের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কুষি অফিসার এ কে এম হাসিবুল হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন অফিসার অনিছুর রহমান, মৎস কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুজ্জামান রাজা মাষ্টার প্রমুখ।
অপরদিকে, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিকাল ৩টায় পৌরসভা চত্বরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওমী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, পৌর আওয়মী লীগের সভাপতি আবু মুসা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগাঠনিক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, আতিয়ার রহমান, আলম হোসেন, মহিদুল ইসলাম মহিদ।
আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্দোগে মাহন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেন। সকাল সাড়ে ৭টায় র‌্যালি সহকারে শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি মজিবর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আজিজুর রহমান পিন্টু, সাংগাঠনিক সম্পাদক আজিবর রহমান, শাহীন রজে মল্লিক মিল্টন, মতিয়ার রহমান প্রমুখ। বিকাল সাড়ে ৪টায় আলমডাঙ্গা কলেজ মাঠে প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহন করেন মুক্তিযোদ্ধা বনাম বনিক সমিতি, সুধিজন বনাম কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সন্ধায় আলমডাঙ্গা উপজেলা মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি, নাটিকা ও মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছে, দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। সকাল ৭ টায় নাটুদা আট কবরে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮ শহীদ বেদীতে পু®পমাল্য অর্পণ করা হয়। পু®পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল কামাল উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আছির উদ্দিন, নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান প্রমূখ।
সারা দেশের ন্যায় সকাল ৮ টায় সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত উচ্চারিত হয়। পরে সকাল ৯ টার দিকে উপজেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজগার টগর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসান, ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন।
সালাম গ্রহণ ও মাঠপার্চ শেষে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন ঘটনাবলির ওপর ডিসপ্লে প্রদর্শনণ করে। বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসান। বিশেষ অতিথি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, মডেল থানার ওসি আকরাম হোসেন ও উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। বেলা ৩ টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যেগে উপজেলার সকল কর্মকর্তাকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা স্বারক ক্রেষ্ট প্রদান হয়। বিকেলে স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল ও সন্ধ্যায় অডিটোরিয়াম হলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর ওস্তাদ আসমত আলী বিশ্বাস ও আক্কাচ আলীর তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।


দর্শনা অফিস জানিয়েছে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দর্শনায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে সকাল ৮টায় দর্শনা পৌরসভা মাঠে দর্শনার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়েছে। পরে এক র‌্যালী নিয়ে দর্শনা শহর প্রদক্ষিণ করে সকল সংগঠন কেরু মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। এছাড়া সাড়ে ৭টায় দর্শনা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও কার্যলয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। দর্শনা পৌর সংলগ্ন কলেজ মাঠে দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, দর্শনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট কমরেড শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মন্জু, দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, ওর্য়াকাস পার্টির জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মজনুর রহমান, বদরুল আলম ফিট্টু প্রমুখ কলেজ মাঠে জাতীয় ও মুক্তিযুদ্ধে পতাকা উত্তেলন করেন। একই অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান এ্যাডভোকেট কমরেড শহিদুল ইসলাম। এছাড়া দর্শনা কেরু কোম্পানীর উদ্যোগে কেরুজ ক্লাব মাঠে ক্রীড়া, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয়।
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি জানিয়েছে, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার সময় কার্পাসডাঙ্গা ব্রীজ মোড়ে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগেরর পক্ষ থেকে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এক র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়। কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি সহিদুল হক ও প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তালসারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পীরপুরকুল্লা নতুনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ, কার্পাসডাঙ্গা ফাযিল বিএ মাদ্রাসা, বুইচিতলা বড় বলদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, জগন্নাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, কার্পাসডাঙ্গা বিশ্বাস কিন্টার গার্টেন, বাঘাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদাবরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করে।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, সারাদেশের ন্যায় জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন খাঁন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বেলা ১১টার সময় মাধবপুর ৮ শহীদদের কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ হাজী আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা প্রমুখ। দুপুরে হাসপাতাল ও এতিমদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক চলচিত্র প্রদর্শন এবং রাতে জীবননগর বাস ষ্ট্যান্ডের পাশে মুক্তমঞ্চে শাইন ক্লাবের শিল্পীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অপরদিকে, জৗবননগরে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে উপজেলায় ২৬ মার্চ হতে ১ এপ্রিল দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহর উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, ইউএনও সেলিম রেজা, ওসি মাহমুদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকি, মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুন্সী মাহবুবুর রহমান বাবু প্রমুখ ।
ভালাইপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মতলুবা খাতুন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষালয়সমূহ ও ইয়থ ক্লাবের যৌথ অংশগ্রহণে ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবস ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার সময় জয়রামপুর ইয়থ ক্লাব মল্লিকপাড়া মাঠে এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। জামান সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (জামান এসডিএফ) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জয়রামপুর ইয়থ ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক জনাব মতলুবা খাতুন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জামান সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিলো দৌড় প্রতিযোগিতা, গোলক নিক্ষেপ, হাড়ি ভাঙ্গা, বল নিক্ষেপ, বর্ণমালা লিখন, ছড়া আবৃত্তি, যেমন খুশি তেমন সাঁজ। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ (সদর সার্কেল)। বিশেষ
অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজ সাকী সালাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সদস্য সহিদুল ইসলাম শাহান, শফিউল কবির ইউসুফ, মাকলুকাবুর রহমান সাজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও হাউলি ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্রমুখ। জামান এসডিএফ নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হক কবিরের সার্বিক পরিচালনায় ও ব্যবস্থপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালাম, শহিদ হোসেন, হাফিজুর রহমান, সোহানা আক্তার।
তিতুদহ প্রতিনিধি জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া দু-দিন ব্যাপি গ্রীসনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি হায়দার মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানা কৃষক লীগের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান ঝন্টু, তিতুদহ ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি খবির উদ্দীন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন (মাষ্টার)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিতুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানভির আহম্মেদ আলো, গ্রীসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রাজ্জাক, আড়ীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মধু, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মেহেরপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। এ দিনটি পালন উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রত্যুসে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে ৩১ বার তপোধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হয়। এরপর সকাল ৬ টায় শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, পুলিশের পক্ষ থেকে আনিছুর রহমান, জেলা পরিষদের পক্ষে থেকে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: গোলাম রসুল, পৌরসভার পক্ষে মেয়র মাহাফুজুর রহমান রিটন, জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে উপস্থিত হয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। র‌্যালি ও পুষ্পস্তাবক অর্পন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, জেলা আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. পল্লব ভট্রাচার্য. শিল্পবিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মী। পরে আওয়ামী লীগের অপর এক অংশ র‌্যালিতে ও স্মৃতিসৌধে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদিন, সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাড. মিয়াজান আলী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এম.এ.এস ইমন, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা লীগের কমিটির সহ-সভাপতি শিল্পপতি হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেহেরপুর স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণীসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেণ সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন, জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ ও জেলা পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। এর আগে তিনি মাঠপার্স শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও মেহেরপুর বাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ । কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শন শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দরা ।
অপরদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-এ মেহেরপুর জেলা বিএনপি গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করে। মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ মাসুদ অরুণের নেতৃত্বে শহর প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়ে পুস্পার্ঘ অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, ইলিয়াছ হোসেন, শেখ সাঈদ আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ রুমা, মুজিবনগর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দিন বিশ্বাস, সদর উপজেলা সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান হাবু, তোজাম্মেল হক, ইদ্রিস হোসেনসহ জেলা বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ।


গাংনী অফিস জানিয়েছে, গাংনীতে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার গাংনী উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং বীর সেনাদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পার্ঘ ও পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুন্তাজ আলী প্রমুখ। সকাল ৮ টার দিকে গাংনী ফুটবল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম)। বেলা ১১ টার দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও হাসপাতাল, এতিমখানায় উন্নত খাবার দেয়া ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন। এসময় গাংনী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ সরকার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি একেএম শফিকুল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মুন্তাজ আলী প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও জেলা জাতীয় পাটি জেপির সভাপতি আঃ হালিম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল পলাশসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গাংনী রেজাউল চত্বরে পতাকা উত্তোলন ও আলোচনাসভার আয়োজজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদুজামান খোকনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা আক্তার বানু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবুসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।
মুজিবনগর প্রতিনিধি জানিয়েছে, মুজিবনগরে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গতকাল সোমবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুজিবনগর স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যো দিয়ে দিনের কর্মসুচীর শুভ সূচনা করা হয়। ৬টা ১৫ মিনিটে শহীদ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুজিবনগর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি জিয়া উদ্দীন বিশ্বাস ও সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু, প্রাক্তন সৈনিক সংস্থা, মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুজিবনগর শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
পরে একযোগে সবার কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার ও মুজিবনগর থানা ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম। পতাকা উত্তোলন শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদেরর প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে সকাল আটটার সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহন করে। সাড়ে ১০টার সময় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়ানুষ্ঠান, শরীরচর্চা ও ডিসপ্লে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মুজিবনগর উপজেলা মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১২টার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেনের এর সঞ্চালনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভা ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর উপজেলা অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) মেসবাহ্ উদ্দীন, মুজিবনগর থানা ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, কৃষি অফিসার মোফাকখারুল ইসলাম, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মমিন চৌধুরি, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল জলিল। এছাড়াও উপজেলার সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বারাদী প্রতিনিধি জানিয়েছে, মহান স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে মেহেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টার সময় মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি শামিম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক জাব্বারুল ইসলাম সোহেল, সামাদ, সাথী, নাছিমা।
আমঝুপি প্রতিনিধি জানিয়েছে, মেহেরপুর সদর উপজেলা আমঝুপি ইউনিয়নে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ১ মিনিটে সারা বাংলাদেশে এক যুগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আমঝুপি গন্ধরাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল ১০টার সময় র‌্যালী ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এসএমসি সভাপতি উমর ফারুক লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরান উদ্দিন আহমেদ চুনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুজিবনগর সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জাহির হোসেন চঞ্চল, সাবেক এসএমসি সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, পিটিএ সভাপতি আকতারুজ্জামান। অপরদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নে সোনাপুর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার সময় একসঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে দিনের শুরু হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য আরজান আলীর সভাপতিতে শান্ত’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কফিলুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম, সুরুজ আলী প্রমুখ।
ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, “স্বাধীনতা আমার অহংকার, আঞ্চলিক ভাষা নয় অবহেলার” এই ম্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে গতকাল সোমবার মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে “ঝিনেদার আঞ্চলিক ভাষা গ্রুপ”। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সার্বিক নিদের্শনা প্রদান করেন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমেরিকা প্রবাসি মো. তরিকুল ইসলাম মিঠু। সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজলের ব্যবস্থাপনায় সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই থেকে এক বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রুপের সদস্যরা র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিটি শহর ঘুরে সংগঠনের কর্মীরা ঝিনাইদহ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শেষে অফিসে এক আলোচনা সভা গ্রুপের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শারমিন আক্তার, জাম্মিম হোসেন সবুজ, সোহাগ স্বপ্ন, মোহাম্মদ আলী, মামুন, উম্মে মাহমুদা আনোয়ার তরু, মেহেদী হাসান, রেক্সোনা খাতুন, মুয়ূর মিয়া, সজল মনি, সৌরভ জোয়ারদার প্রমুখ। আলোচনা সভায় দেশের স্বাধীনতা আনতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদেরকে গ্রুপ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হয়।
অপরদিকে, বিস্তারিত কর্মসুচির মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। এ উপলক্ষ্যে শহরে র‌্যালি ও ঝিনাইদহ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মো. মসিউর রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় দিবসটি পালনের জন্য সোমবার সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা শহরের গীতঞ্জলী সড়কের কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকে। এরপর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়। শহর ঘুরে র‌্যালিটি চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ডের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভের কাছে শেষ হয়। এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল মালেক, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মসিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক, এ্যাড. আ. মজিদ, ঝিনাইদহ সদর থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আ. মজিদ বিশ্বাস, আক্তারুজ্জামান, মাহবুবা রহমান শিখা, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, শাহাজাহান আলী, এ্যাড. জিয়াউল ইসলাম ফিরোজ, ইবি ছাত্রদল নেতা শাহেদ, যুবদল নেতা আহসান হাবিব রনক, সাজেদুর রহমান পাপ্পু, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, আরিফুল ইসলাম আনন ও মিজানুর রহমান সুজনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, সারা দেশের ন্যায় যাথাযথ মর্যাদায় ঝিনাইদহের মহেশপুরে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধ কমান্ডার আব্দুল মালেক গাজী, থানা অফিসার ইনচার্জ লস্কর জাহিদুল হক, পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আ’লীগের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এছাড়াও নেপা ইউনিয়নের কে,বি,এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভাষোনপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কে,বি,এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। অপরদিকে একই সময় বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবন পালিত হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাসেম মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নেপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামছুল আলম মৃধা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য খবির উদ্দিন, নেপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আলী ফারাজি। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ মুক্তিযোদ্ধার উপর বিভিন্ন নাটক, নৃত্য, কবিতা ও গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।