চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিয়ানমার জান্তাকে রাশিয়া দিচ্ছে ৪টি সু-৩০এম ফাইটার জেট

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
মিয়ানমারকে শিগগিরই রাশিয়া চারটি নতুন সুখোই সু-৩০এম জেট ফাইটার সরবরাহ করবে। জান্তার মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন গত মঙ্গলবার বলেছেন যে, অভ্যুত্থান নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এই মাসে রাশিয়া সফরের সময় ইরকুস্টস্ক এভিয়েশন প্ল্যান্টে এই ফাইটার জেটের উৎপাদন ও পরীক্ষা ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করেছেন। এসব শিগগিরই মিয়ানমারকে সরকরাহ করা হবে। ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত প্রায় ২০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক চুক্তির অধীনে রাশিয়া মিয়ানমারকে ছয়টি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে।

ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, প্রথম দু’টি জেট এই বছরের মার্চে দেয়া হয়েছিল, বাকি চারটি শিগগিরই দেয়া হবে। জান্তা শাসনের প্রতিরোধকারীদের ধারণা, নতুন সরবরাহে সম্ভবত দেশটি আরো বেসামরিক মৃত্যু দেখতে পাবে। কারণ রাশিয়ার আগের জেট ফাইটারগুলো বেসামরিক ও প্রতিরোধ বাহিনীর বিরুদ্ধে মারাত্মক বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইরাবতী জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়ার সামরিক হার্ডওয়্যার আমদানি করছে। মিন অং হ্লাইং যে কয়েকটি দেশ পরিদর্শন এখন করতে পারেন তার মধ্যে রাশিয়াও একটি। গত বছর অভ্যুত্থান করার পর থেকে বেশির ভাগ দেশ তাকে এবং তার শাসনকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এই অভ্যুত্থানের পর রক্তাক্ত ক্র্যাকডাউনে এ পর্যন্ত দুই হাজার জনেরও বেশি বেসামরিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। মিন অং হ্লাইং সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনবার রাশিয়া সফর করেছেন এবং রাশিয়ান অস্ত্রের একজন অনুরাগী বলে উল্লেখ করে বলেছেন যে, ‘আমি এইগুলো পছন্দ করি’। স্টকহোমের ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে, রাশিয়া ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মিয়ানমারের কাছে ২৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যে অস্ত্র সরঞ্জাম কিনেছে তার মধ্যে রয়েছে মিগ-২৯ ফাইটার জেট, ইয়াক-১৩০ কমব্যাট প্রশিক্ষক, এমআই-১৭, এমআই-২৪ এবং এমআই-৩৫ কমব্যাট হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য অস্ত্র। নতুন যুদ্ধবিমানের আসন্ন সরবরাহের তথ্যটি এমন একসময় এলো যখন মিয়ানমারের জান্তা বিমান হামলায় দেশটির ১১ স্কুল শিশুর মৃত্যু ঘটিয়েছে। তাদের কেউ কেউ সাত বছরের কম বয়সী। গত শুক্রবার সাগাইং অঞ্চলের একটি স্কুলে জান্তার বিমান হামলা এবং স্থল অভিযানে তারা নিহত হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ-পূর্ব মিয়ানমারের কায়াহ এবং কারেন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম এবং একটি শরণার্থী শিবিরে আটটি বিমান হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। হামলায় নয়জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, বাড়িঘর এবং ধর্মীয় ভবন ধ্বংস হয়েছে। নতুন রাশিয়ান সু-৩০এম জেটের আগমনও ঘটছে এমন এক সময়ে যখন জান্তা প্রতিরোধ বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য বিমান শক্তির ওপর সরকার ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীল হচ্ছে। কারণ এর স্থল সেনারা এক পর এক পরাজিত হচ্ছে এবং অনেকে সেনা দলত্যাগ করছে। সরকার পশ্চিম মিয়ানমারে আরাকান আর্মির মতো জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিমান হামলা চালাচ্ছে, যেখানে জান্তা এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করতে লড়াই করছে।

শুক্রবার, জাতিসঙ্ঘের (ইউএন) মানবাধিকার অফিস মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অস্ত্র ও রাজস্ব আয় জান্তা শাসনের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়ার জন্য সবারই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশ জান্তা শাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো জান্তাকে সামরিক হার্ডওয়্যার সরবরাহ করে চলেছে। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় শুক্রবার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে যে, রাশিয়া যখন সরকারকে ফাইটার জেট এবং সাঁজোয়া যান সরবরাহ করে, তখন চীনও ফাইটার এবং পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে দেশটিকে। সার্বিয়ার মতো অন্যান্য দেশ রকেট এবং আর্টিলারি শেল সরবরাহ করেছে মিয়ানমারকে। অন্য দিকে ভারত একটি দূরবর্তী বিমান প্রতিরক্ষা স্টেশন সরবরাহ করেছে দেশটিকে।

পক্ষ ত্যাগ করে আরাকান আর্মিতে মিয়ানমারের শতাধিক সেনা: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শতাধিক সেনা পক্ষ ত্যাগ করে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মিতে যোগ দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আগে ও পরে এসব সেনা পক্ষ ত্যাগ করেছে বলে দাবি করেছেন আরাকান আর্মির মুখপাত্র। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা বলেন, নতুন করে সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর পালেতওয়াতে কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জান্তা সেনা তাদের অস্ত্রসহ পক্ষ ত্যাগ করেছে। লড়াই শুরুর আগেও অনেকে তাদের বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মে মাসে রাখাইন রাজ্যে লড়াই শুরু হওয়ার আগে ৯০ জনের মতো জান্তা সেনা আরাকান আর্মিতে যোগ দিয়েছেন। রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মে মাসে আরাকান আর্মির সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের সরকারি সেনারা গ্রেফতার করা শুরু করলে উত্তেজনা শুরু হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া অঘোষিত অস্ত্রবিরতির পর প্রায় ১৬ মাস রাখাইন ও পালেতওয়াতে সঙ্ঘাত খুব একটা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সঙ্ঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। মে মাস থেকে পালেতওয়াতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল। আগস্ট মাসে মিয়ানমার-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সঙ্ঘাত জোরদার হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মংডু টাউনশিপেও সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। মংডু ও পালেতওয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় স্থল ও নৌপথে পণ্য পরিবহন ঠেকাতে অবরোধ জারি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে স্থানীয়রা জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের ঘাটতির মুখে পড়েছেন। এই শহরগুলোতে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তবর্তী সেনাবাহিনীর কয়েকটি ফাঁড়ি দখল করেছে আরাকান আর্মি। সামরিক বাহিনীর সেনাবহর ও রসদ সরবরাহে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা।
আরাকান আর্মি দাবি করেছে, তাদের দখল করা ফাঁড়িগুলো পুনরুদ্ধারে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিমান ও কামান হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এতে সেনাবাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। ফাঁড়িগুলো এখনো তাদের দখলে। মুখপাত্র বলেছেন, এই মুহূর্তে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। কিন্তু সামরিক সরকার ক্রমাগত সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ লড়াই আরো জোরদার হতে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।