চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মায়ের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক মোজাম্মেল হক

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাযে জানাযায় বিএনপি মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের ঢল : শুক্রবার নিজ বাসভবনে দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য, জেলার প্রথম শিল্পপতি, জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক হাজী মোজাম্মেল হক। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ১ম ও বিকাল সাড়ে ৫টায় নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ২য় জানাযা শেষে মায়ের পাশে অন্তিম শয্যা নেন তিনি। আত্মীয় স্বজন, দলীয় নেকাকর্মী ও জেলাবাসীর পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন এ বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সফল শিল্পপতি।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ১ম নামাযে জানাযা শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চেয়ারপার্সনের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
জানাযা ও শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তাকে বহণকারী একটি ফ্রিজিং ভ্যান। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ইমারজেন্সী রোডস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে এসে পৌছুলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও দলীয় নেতাকর্মীদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তাকে এক নজর দেখার সুবিধার্থে ফ্রিজিং ভ্যানের কাঁচযুক্ত স্বচ্ছ জানালা খুলে দেওয়া হয়। সারিবদ্ধভাবে একে একে হাজারো মানুষ প্রিয় মানুষের মুখটি দেখে ফিরে; কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিকাল সাড়ে ৫টায় তাঁর মরদেহ ২য় জানাযার উদ্দেশ্যে টাউন ফুটবল মাঠে নেওয়া হয়। জানাযায় অংশ নিতে কয়েক হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। দুপুর থেকেই নানা শ্রেণী পেশার মানুষ সেখানে সমবেত হন।
জেলার প্রথম শিল্পপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক সাংসদ হাজী মোজাম্মেল হকের জানাযায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এ সময় মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
পিতার পক্ষে শেষ কথা বলতে উপস্থিত সকলের সম্মুখে কান্না জড়িত কন্ঠে বক্তব্য রাখেন মোজাম্মেল হকের বড় ছেলে রফিকুল হক মুন্নু।
দলের এক সময়ের কর্ণধর ও জননন্দিত নেতার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। জানাযায় অংশ নেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
এ সময় প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা বিএনপি’র প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাহমুদ হাসান খান বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, মুজিবুল হক মালিক মজু, এ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শরীফুজ্জামান শরীফসহ আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও দৈনিক সময়ের সমীকরণ প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদ মালিতা, সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক, সহ-সভাপতি মুনজুরুল আলম মালিক লার্জ, তারা দেবী ফাউন্ডেশন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ উজ জামান সিজার, জীবননগর পৌর ও উপজেলা বিএনপি, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি, দর্শনা পৌর বিএনপি, জীবননগর সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন ময়েন, যুবদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, অংগ সহযোগি ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করে।
এরআগে ফ্রিজার ভ্যান থেকে তাঁর মরদেহ নামানো হলে দলের পক্ষ থেকে তাকে শেষ সম্মান জানিয়ে দলীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করেন জেলা বিএনপি’র প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাহমুদ হাসান খান বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফেতুল্লাহ মহলদার, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা জাসাস’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সাবেক ছাত্রনেতা সুমন পারভেজ, জেলা তরুণ দলের আহ্বায়ক মাবুদ সরকারসহ নেতৃবৃন্দ।
জানাযায় অংশ নেন জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি খুস্তার জামিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, পৌর আ.লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দীন হেলা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এড. মহ: শামসুজ্জোহা, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা পরিষদের সদস্য সাহান।
জেলা বিএনপি সদস্য সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হবি, জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সরদার আলী হোসেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকারম হোসেন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সালেহীন লিটন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম,এম শাহাজান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল খালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আওরোঙ্গ জেব বেল্টু, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, জীবননগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান খোকন, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবির, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু, দর্শনা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ সরোয়ার রোমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুর রহমান মোমিন, ছাত্রনেতা আমানউল্লাহ আমান প্রমূখ।
জানাযার নামাযে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম জুনাইদ আল হাবিবী।
জানাযা শেষে কবরী রোড হয়ে মোজাম্মেল হকের লাশ জান্নাতুল মওলা কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশবাহী ভ্যানটির সামনে পিছনে ধীর গতিতে হেটে যান তাঁর তিন ছেলেসহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে মা সরজিনি বেগম’র বাম পাশে তাঁকে শায়িত করার পূর্ব সিদ্ধান্ত ছিল। সে মোতাবেক পিতার লাশ নিজ হাতে কবরস্থ করেন বড় ছেলে রফিকুল হক মুন্নু ও মেজ ছেলে মাহবুবুল হক তাল্লু। বর্ষীয়ান নেতার কবরে একমুঠো মাটি দিতে হাজার হাজার মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
পারিবারিক ভাবে জানানো হয়, মরহুম হাজী মোজাম্মেল হকের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আগামী শুক্রবার বাদ আসর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তাই সকলকে দলমত নির্বিশেষে কবরী রোডস্থ তাঁর ‘বসবাস’ বাসভবনে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাজী মোজাম্মেল হক গত সোমবার ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৪ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খি ও অসংখ্য গুণাগ্রাহী রেখে গেছেন। ব্যক্তি হিসেবে ব্যবসা ও রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন হাজী মোজাম্মেল হক। সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।